খুলনায় পুলিশের ঢিলেঢালা অবস্থানের কারণে চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়েছে। ১৫ মার্চ নগরীর বাগমারা এলাকায় চরমপন্থি নেতা শেখ শাহীনুল হক শাহীন ওরফে বড় শাহীনকে হত্যার পর প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।
পুুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- দৌলতপুরে আরেক চরমপন্থি নেতা শহীদুল ইসলাম ওরফে হুজি শহীদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। নিহত বড় শাহীনের বিরুদ্ধে আলোচিত হুজি শহীদ হত্যাসহ ১০টি মামলা বিচারাধীন।
এদিকে চরমপন্থি নেতা বড় শাহীন হত্যাকাণ্ডে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। নিহতের মা রাহিমা বেগম খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানা গেছে। খুলনা সদর থানা ওসি সানোয়ার হোসেন মাসুম বলেন, কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, রাতের বেলায় পরিচিত কেউ তাকে ওই স্থানে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালে হুজি শহীদ খুন হলেও তার একাধিক ভাইপো ও সহযোগী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। হুজি শহীদ হত্যার এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত জুলকার নাঈম মুন্না, কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু ও সর্বশেষ ১৫ মার্চ বড় শাহীন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়। অন্যদিকে গত ২৪ জানুয়ারি রাতে নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ণব কুমার সরকারকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। সেই সঙ্গে যৌথ বাহিনীর অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে সন্ত্রাসীরা গা-ঢাকা দেয়। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় ফের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।