মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে ভারতে যাই। বয়রা সীমান্ত দিয়ে বনগাঁ হয়ে টালিখোলায় দেড় মাস রিক্রুটিং প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে বিহারে যাই। বিহারে এক মাসের বেশি অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পথে বন্যার কারণে ভারতের দত্তপুলিয়ায় এক মাস অবস্থানের পর দেশে ফিরে আসি। ভারত থেকে দেশে ফিরে আসার সময় আমার সঙ্গে ছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুরের অসিতবরণ মিত্র। প্রথমে কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে যুদ্ধ শুরু করি। মুক্তিযুদ্ধের অংশ হিসেবে নড়াইল সদর উপজেলার খড়রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নকশালদের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৬৮ জন নকশালকে কলাবাড়িয়া মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে ধরে নিয়ে আসি।
একে একে লোহাগড়া, কালিয়া ও নড়াইল সদর থানা শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের প্রতিটি দিনরাত ছিল স্মৃতিবিজড়িত। তরুণ, যুবক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক যাঁরা আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে মৃত্যুভয় উপক্ষো করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন তাঁদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে আমাদের (মুক্তিযোদ্ধাদের) সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা করেছেন। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে স্থাপিত মঞ্চে অস্ত্র জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাই।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা। শ্রুতিলেখক : সাজ্জাদ হোসেন, নড়াইল