জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) কর্মীদের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। বেলা ২টার পর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ফটকে পুলিশ আর ভিতরে সেনা সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। মারামারির ঘটনায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সংঘাতের পর কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারগুলো খালি দেখা গেছে। কয়েকজন টিকিট কাটতে পারলেও কোনো চিকিৎসা পাননি বলে জানান। সকালে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জরুরি বিভাগে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার ভাই জানান, দেড় ঘণ্টা ধরে রোগী নিয়ে বসে আছি। চিকিৎসা দেওয়ার মতো কেউ নেই। ব্যথায় যন্ত্রণায় রোগীর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অভ্যুত্থানে আহত মামুন বলেন, ‘পুরো হাসপাতাল চালায় দালাল সিন্ডিকেট। এর বিরুদ্ধে কথা বলায় সকাল ১০টার দিকে ফিজিওথেরাপি নিতে যাওয়া আমাদের কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় হাসপাতালের একদল কর্মচারী ও দালাল।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই এ হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর মধ্যে গত রবিবার রাতে ব্লাডব্যাংকের কর্মী রফিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মীরা। এর মধ্যে তাদের ওপর ‘হামলা’ হয় বলে দাবি করেন ওই কর্মী। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল কেনানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।