চিকিৎসক, নার্স, ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী, ম্যাটস শিক্ষার্থী, টেকনোলজিস্টদের নানামুখী আন্দোলনে অচল অবস্থা স্বাস্থ্য খাতে। আন্দোলন থেকে অনেক সময় আসছে কর্মবিরতির ঘোষণাও। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দীর্ঘ হচ্ছে রোগী দেখা, টেস্ট আর অপারেশনের সিরিয়াল।
গতকাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ন্যায্য পদোন্নতি ও সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে সকাল থেকে অবস্থান নেন। পরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আগামী ১২ সপ্তাহের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন তারা।
গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসে কর্মবিরতি শুরু করা চিকিৎসদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতিপত্র আসার পর তারা প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
দাবি পূরণে সময় চেয়ে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এই কাজটি শেষ করতে ২০-২৫ কার্যদিবস লাগবে। সব মিলিয়ে আপনাদের দাবি-দাওয়াগুলো পূরণে আমরা ১২ সপ্তাহ সময় চেয়েছি। এখানে দুটি মন্ত্রণালয় জড়িত। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে কাজটা করছি। বিষয়টি নিয়ম মেনে করতে হচ্ছে।’
এরপর কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন চিকিৎসকরা। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের পক্ষে ডা. মোহাম্মদ আল আমিন এক বিবৃতিতে বলেন, অধ্যাপক সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমের সামনে বলেছেন আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে সাড়ে সাত হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য সহকারী, সহযোগী ও অধ্যাপক পদে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রমোশনের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ফাইলের প্রমোশনের কাজ সম্পন্ন করবেন। সরকারের এই প্রতিশ্রুতিতে চলমান কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে।’ এ ছাড়া আশ্বাস দেওয়া ১২ সপ্তাহের মধ্যে যদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ফের কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের দাবিগুলো হলো- চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও এমবিবিএস ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি বজায় রাখতে পদোন্নতিযোগ্য সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অতি দ্রুত ও ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি নিশ্চিত করা। অন্তঃ ও আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর করা। তৃতীয় গ্রেড পাওয়া সব যোগ্য চিকিৎসককে নির্দিষ্ট সময় পর দ্বিতীয় ও প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির কারণে কিছু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভাঙচুর হয়েছে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, রোগীর লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করেছে। এ সময় কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় রোগীর স্বজনরা। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে হেনস্তা করতে যায়।’
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাঁচ দফা দাবিতে একাডেমিক শাটডাউনের (ক্লাস বর্জন) ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন দেশের সব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সন্ধানী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সভাপতি ইসতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন বলেন, ‘এমবিবিএস শিক্ষার্থী না হয়েও অনেকে নিজেদের চিকিৎসক দাবি করে ডাক্তারদের মতো চিকিৎসা দেন। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ডিএমএফ) চিকিৎসক পদবি দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট পর্যন্ত করেছে। এজন্য আমরা এ সংক্রান্ত রিট দ্রুত নিষ্পত্তি চাই। একই সঙ্গে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এবং ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ইন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (ডিএমএফ) বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ক্লাস বর্জন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি দিয়েছিলেন ম্যাটস শিক্ষার্থীরা। ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ আন্দোলনে নেমেছে।