কাণ্ড দেখতে কিছুটা শিয়ালের লেজের মতো এবং গা-ভর্তি কাঁটার কারণেই নাম শিয়ালকাঁটা। বাতাসে যখন হলুদ রঙের ফুল ভাসে অপূর্ব সুন্দর লাগে দেখতে। জন্মায় কোনো যত্ন ছাড়াই। ফুলটির দেখা মিলল রংপুর মহানগরীর পাঁচমাইল মডার্ন মোড়ের কাছে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে। এটি দুর্লভ না হলেও খুব একটা দেখা যায় না। তবে দেখা মিললে এর সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো। এ গাছটি ৫০০ বছর আগে মেক্সিকো থেকে এ দেশে এসেছে। শিয়ালকাঁটা সম্পর্কে জানা গেছে, অল্প শাখাবিশিষ্ট গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। কাণ্ড ভাঙলে হলদে কষ বের হয়। কষ গবাদিপশুর জন্য বিষাক্ত। ফল অনেকটা ডিম্বাকার ও লম্বায় ১ থেকে ১২ ইঞ্চি হয়। এর মধ্যে সরিষার মতো কালো রঙের বীজ থাকে। শিয়ালকাঁটা গ্রীষ্মকালে মারা যায় আর শরৎকালে মাটিতে পড়ে থাকা কালো রঙের বীজ থেকে নতুন গাছ জন্মায়। ডাঁটা রান্না করে খাওয়া যায়। প্যাপেভারেসি গোত্রের গাছটির কাণ্ড, পাতা ও ফলে কাঁটা থাকে। ফুলে পাপড়ি থাকে ছয়টি। এ গাছ মেক্সিকো থেকে বিশ্বে আগাছা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং রংপুর পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, মেক্সিকো থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে আমাদের দেশের প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে এ আগাছাটি। ষোড়শ শতকের দিকে স্প্যানিশ বাণিজ্যিক জাহাজে আলুর বস্তা ও মাটির সঙ্গে এ গাছের সরিষার মতো ছোট ছোট বীজ চলে এসেছিল এ দেশে। শিয়ালকাঁটা ভেষজগুণে পরিপূর্ণ। এ গাছ কৃমি, পিত্ত ও কফনাশক।
জ্বর ও মূত্রকৃচ্ছ্র রোগে কার্যকর। মূলের রস কুষ্ঠরোগ নিরাময়ে কাজে লাগে। রক্তের ক্ষমতা তৈরিতে, নতুন রক্ত তৈরিতে, দেহের ক্ষয়পূরণে, পেটের যাবতীয় রোগ নিরাময়ে শিয়ালকাঁটা ব্যবহৃত হয়।