জুলাই আন্দোলনে দুর্বৃত্তদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবন। কয়েক দফা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটপাট করা হয়। আগুনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভবনের বিদ্যুৎ, ক্যাবল, জেনারেটর, ইন্টারনেটব্যবস্থার। ঘটনার পরপরই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দাবি করেছিল, আগুনে বিআরটিএ ভবনে ১৪৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত এ সংস্থাটির মেরামতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে মাত্র ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই কয়েক দফায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে বিআরটিএ ভবনে। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সেবাদাতা সংস্থাটি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিআরটিএ ভবনে এখনো ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্টত বিরাজমান। নিচ থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ভাঙা কাচ ও আগুনে পোড়া কালচে দাগ। বিশেষ করে ভবনের সামনের অংশের নিচ থেকে চার তলা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তের পরিমাণ বেশি। এ অংশে এখনো বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও অগ্নিকাণ্ডের পর শুরুতে কর্মকর্তারা ভবনের বাইরে অফিস করলেও এখন তারা ভিতরেই কোনোভাবে নিয়মিত কাজ করছেন। তবে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কার। সূত্র জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কুচক্রী মহলের হামলা ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিআরটিএ মূল ভবন। আগুনে পুড়ে যায় ল্যান্ডফোন, সিসি ক্যামেরার সার্ভাররুম, এসি-বিদ্যুতের লাইন, নষ্ট হয় বিভিন্ন আসবাবও। ওই সময় জানানো হয়েছিল, বিআরটিএ কার্যালয়ে ১৪৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের লক্ষ্যে বিআরটিএর পরিচালক (প্রশাসন) আজিজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতি সারাতে ৩৮ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ করা হয়।
কমিটির মতামত অনুযায়ী, ভবন মেরামত ও আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র, কম্পিউটার কিনতে অতিরিক্ত ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। এর মধ্যে মোটরযানে ৬৫ লাখ ৬০ হাজার, আইটিসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ ১ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৬০০, হেল্প ডেস্ক ৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৭, রোড সেফটিবিষয়ক ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ৫ লাখ, অভ্যর্থনা কক্ষ ৬ লাখ, তিনটি বেসমেন্টসহ ১২টি ফ্লোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের জন্য ১৫ লাখ, আসবাবপত্র কেনায় ৭ লাখ এবং পুড়ে যাওয়া সাবস্টেশন, জেনারেটর, এলটি ক্যাবল, বিএমএস, লাইটিং-ফিটিংস ইত্যাদি আইটেম প্রতিস্থাপনে ১২ কোটি ৬ লাখ, পূর্তকাজে ৯০ লাখ ৫২ হাজার ২৪১ ও ডেটা সেন্টারে ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিআরটিএর মুখপাত্র ও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারিং শীতাংশু শেখর বিশ্বাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বিআরটিএ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ভবনটির মেরামত ও সংস্কারে আমরা মন্ত্রণালয়ে ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা চেয়েছি। মন্ত্রণালয় আপাতত ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। এ টাকা দিয়ে প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো সংস্কার ও মেরামত করব। এগুলো শেষ করে পরে প্রয়োজন হলে আবার চাইব। তবে প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া টাকা দিয়ে সংস্কার শুরু করতে চাই।’