রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ৫০০ বছর আগে বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। কারুকার্যখচিত এ মসজিদ প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যকলার ঐতিহাসিক নিদর্শন। রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে নির্মিত মসজিদটি দীর্ঘ এ সময়েও তার সৌন্দর্য ধরে রেখেছে। এখনো দর্শনার্থীসহ সাধারণের কাছে বেশ দৃষ্টিনন্দন। গত বছর ৫০০ বছর পূর্ণ হয়েছে মসজিদটির। ৫০ টাকার পুরোনো নোট ছাড়াও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে দেখা মেলে এ মসজিদের।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে আসে। প্রায় সারা বছর পর্যটকদের আনোগোনা থাকে। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বাঘা উপজেলা সদরে এটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক সূত্র জানায়, হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ বিপুল অর্থ ব্যয় করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী বাঘায় শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন। হোসেন শাহী শাসনামলকে বাংলার মুসলমান শাসনের স্বর্ণযুগ বলা হয়। শাসকরা উদারভাবে বাংলা শাসন করেন। এ আমলে বাংলায় সাংস্কৃতিক নবজাগরণের উন্মেষ ঘটে। সমৃদ্ধ হয় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি। হোসেন শাহী শাসকরা বাংলায় মুসলিম সংস্কৃতি ও স্থাপত্যকলার প্রসারে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বাঘার শাহী মসজিদ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদসহ বহু প্রাচীন স্থাপনা আজও হোসেন শাহী বংশের স্থাপত্যকলার সাক্ষ্য বহন করে। বাঘার শাহী মসজিদ ও কমপ্লেক্স ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের চত্বরে সমতলভূমি থেকে ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। উত্তর পাশের ফটকের ওপরের স্তম্ভ ও কারুকাজ নষ্ট হয়ে গেছে। ১০টি গম্বুজ আছে। ভিতরে ছয়টি স্তম্ভ। মসজিদে চারটি মেহরাব আছে যা বিশেষ কারুকার্যখচিত। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেওয়াল চওড়া ৮ ফুট, গম্বুজের ব্যাস ৪২ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট। চৌচালা গম্বুজের ব্যাস ২০ ফুট, উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। গাঁথুনি চুন-সুরকি-পাথর দিয়ে নির্মিত। মসজিদের ভিতরে ও বাইরের দেওয়ালে মেহরাব ও স্তম্ভ আছে। মাঝখানের দরজার ওপর ফার্সি ভাষায় লেখা শিলালিপি আছে। বাঘা শাহী মসজিদের চারপ্রান্ত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের দুই দিকে দুটি প্রবেশদ্বার আছে। মসজিদের ভিতরে-বাইরে সর্বত্রই টেরাকোটার নকশা। পাশে বিশাল দিঘি, পাশে মাজার শরিফ। আছে নারীদের জন্য একটি মসজিদও। বাঘা শাহী মসজিদ কমপ্লেক্সের সহকারী কাস্টোডিয়ান দবির হোসেন বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ শাহী মসজিদকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দাবিগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।