পুরান ঢাকার ধোলাইখালে তুচ্ছ ঘটনায় এলাকাবাসীর সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদের রাতভর কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ ছাত্রসহ সাতজন আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জবি ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। সোমবার রাতে ধোলাইখালে এ সংঘর্ষের সূচনা হয়। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজনকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ও অন্যদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাহিদ ইসলাম, জাহিদ হাসান, ইশতিয়াক হোসেন ও আল মামুন, ইতিহাস বিভাগের হাবিবুর রহমান, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের আবু বকর সিদ্দিক, আকাশ ও আবু সাঈদ মো. আকিব।
আহত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে টিপু সুলতান রোডে জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হেঁটে যাচ্ছিলেন। ভুলক্রমে তিনি নির্মাণাধীন একটি ভবনের ঢালাইয়ের ওপর পা রাখেন। এতে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে মারধর করে। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে জবির কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদেরও আটকে রেখে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁর সহপাঠীদের খবর দিলে ইতিহাস বিভাগের হাবিবসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে যান। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজন হাবিবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে একটি বাসায় আটকে রাখেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, পুনরায় জবি শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে ওই দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে গেলে নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সাহিদসহ স্থানীয়রা পুনরায় শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল, গরম পানি, কাচ ভাঙাসহ লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা করেন। এ সময় দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
এর আগে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা শহিদুলের নবাবপুর এলাকার বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এ সময় স্থানীয় একটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার হারুনুর রশীদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যের উপস্থিতিতে শহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, তবে তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদিক্ষণ করে গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বরে এসে সমবেত হয়।
জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী শহিদুল ও তাঁর দোসররা যে দলেরই হোক তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়াও এই ঘটনায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।