অশ্রুসিক্ত নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানকে চিরবিদায় জানানো হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা স্কুল মাঠে সর্বশেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে তাঁর নামাজে জানাজা হয়।
এ সময় তাঁর স্মৃতিচারণা করে রাজনৈতিক নেতারা বলেন, ‘আবদুল্লাহ আল নোমান একজন পরিপূর্ণ, আদর্শিক রাজনৈতিক নেতা’ ছিলেন। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দীন, নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আমীর সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, জাতীয় পার্টির মহানগর সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ, আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এর আগে নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্মৃতিচারণ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নোমান ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতি করেছি। নোমান ভাই সুস্থ থাকলে, আরও কিছুদিন বাঁচলে এ সময় তার অবদান আমাদের প্রয়োজন ছিল।’
জানাজায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, নোমান ভাই আমাদের নেতা ছিলেন না শুধু, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক।
গতকাল সকালে আবদুল্লাহ আল নোমানের লাশ প্রথমে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু), যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা ছিল নোমানের। সেখানে সিভাসুর শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সিভাসু থেকে নোমানে লাশ নেওয়া হয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরপর কফিনবন্দি নোমান ফেরেন বিএনপি নেতা হিসেবে তার অর্ধশত বছরের রাজনীতির প্রিয় প্রাঙ্গণ নাসিমন ভবনে। নগরীর নুর আহমদ সড়কে দলীয় কার্যালয়ের এ মাঠে মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার সভা-সমাবেশ করেছেন নোমান। লাখো কর্মীকে রাজনীতির দীক্ষা দিয়েছেন। সেই প্রাঙ্গণে যখন তিনি শেষবারের মতো এলেন, তখন নেতা-কর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বরণ করে নিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ লাশ গ্রহণ করেন। নগর বিএনপি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানা ও শাখা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান বর্ষীয়ান এই নেতাকে।