জেমস শুধু ব্যান্ড লিজেন্ডই নন, সংগীতের আসক্তির এক নাম। সংগীতাঙ্গনের মহাতারকা জেমস থাকবেন আর গানপাগলাদের উন্মাদনা থাকবে না, তা হতে পারে না। গতকাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার টগি ক্লাবের মাঠে অনুষ্ঠিত ‘রিদম অব ইয়ুথ’ শিরোনামে কনসার্টে মিউজিক ক্রেজ জেমস যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো শ্রোতাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন এক অজানা ভালো লাগায়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার টগি ক্লাবের মাঠে জেমস আসবেন বলে সেই রোদেলা দুপুর থেকে অগণিত ভক্তের অপেক্ষা। ভক্তদের আগমনে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার টগি ক্লাব ও এর আশপাশে। নগরবাউল জেমসের সুরের ঝড়ে কেঁপে উঠতে অধীর অপেক্ষা করছিল দুষ্টু ছেলের দল। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে দোলা দিতে অবশেষে কাক্সিক্ষত ব্যান্ডলিজেন্ড নগরবাউল জেমস এলেন, গাইলেন আর কানায় কানায় পরিপূর্ণ শ্রোতাদের গাওয়ালেন, নাচালেন ও জয় করলেন। অগণিত ভক্ত নগরবাউলের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলেন।।
এ কনসার্টের আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও টি-স্পোর্টস। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও রেডিও ক্যাপিটাল। তরুণ সমাজকে সংগীত ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে সংগীতের এ আসরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন আয়োজকসংশ্লিষ্টরা।
শ্রোতাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় মঞ্চে ওঠেন জেমস। গান শুরুর আগেই ব্যান্ড সুপারস্টারের উপস্থিতি সমগ্র টগি ক্লাবকে করতালি আর ভালো লাগার উচ্ছ্বাসে প্রকম্পিত করে তোলে। আর নগরবাউল যখন মাইক্রোফোন হাতে নেন তখন যেন দোল খেলে যায় ভক্তদের মাঝে।
‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’ দিয়ে নিজের পরিবেশনা শুরু করেন ব্যান্ড সুপারস্টার। এরপর একে একে গেয়ে শোনান দিওয়ানা দিওয়ানা আমি রূপের মাস্তানা, গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া, দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ, বিজলি, দুষ্টু ছেলের দল, সুলতানা বিবিয়ানা, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব, পাগলা হাওয়ার তরে। হিন্দি গান ‘ভিগি ভিগি’ দিয়ে আসরের পর্দা নামান জেমস।
এর আগে বিকাল থেকে দেশের জনপ্রিয় ছয় ব্যান্ড আর্টসেল, অ্যাভয়েড রাফা, অ্যাঞ্জেল নূর অ্যান্ড ব্যান্ড, শিরোনামহীন, মেঘদল ও থ্রিএডি দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে। আসরের শুরুতেই মঞ্চে ওঠেন ব্যান্ড থ্রিএডি। নিজেদের একটি ইংরেজি গান দিয়ে সুরের ঝাঁপি খুলে একে একে পরিবেশন করেন-তেরো নদী সাত সমুদ্দর, ঘুমন্ত শহরে, ঝড়। এরপর পরিবেশনায় মেঘদলের শিবু কুমার শীল গেয়ে শোনান- এসো আমার শহরে, ফিরব না তুমি আর আমি, না বলা ফুল ফুটবে, এ হাওয়া। ধারাবাহিক পরিবেশনায় ‘আমার পথচলা’ গানটি দিয়ে শুরু করে আর্টসেল গেয়ে শোনায় অসময়, অনিকেত প্রান্তর। এরপর ব্যান্ডটি তাদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্যান্ডগুরু আজম খানকে ট্রিবিউট করে গেয়ে শোনায়-রেললাইনের ওই বস্তিতে, শাফিন আহমেদকে ট্রিবিউট করে গেয়ে শোনায় মাইলসের জনপ্রিয় গান-নীলা তুমি কি জানো না, ওয়ারফেইজের ‘বসে আছি একা’ পরিবেশন শেষে সোলসের ‘বৃষ্টি দেখে অনেক কেঁদেছি’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মঞ্চ থেকে নামে আর্টসেল।
এরপর অ্যাঞ্জেল নূর অ্যান্ড ব্যান্ড গেয়ে শোনায়-যদি কেড়ে নিতে বলে, যদি আবার দেখা হয় তোমার সাথে। শিরোনামহীন পরিবেশন করে শোনায়-একা পাখি, বন্ধ জানালা ও ইচ্ছে ঘুড়ি। অ্যাভয়েড রাফা গেয়ে শোনায়-মেঘের দেশে এখনো তুমি, আমার হাড় কালা করলিরে, আমি আকাশ পাঠাব, ভালোবাসার গান ইত্যাদি। জেমস মঞ্চে ওঠার আগে ২৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সিজন-১ বিজয়ী সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় টিমকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন হোসেন পাভেল, ডেইলি সান ও টি-স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভীর উল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক এম এইচ মঞ্জু, সদস্যসচিব আতিক শাহরিয়ার প্রমুখ।