২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন স্বজন ও রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ তিন বাহিনী প্রধানেরা। গতকাল প্রথমবারের মতো পালন হওয়া শহীদ সেনা দিবসে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি তারা শ্রদ্ধা জানান।
২০০৯ সালে পিলখানায় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে একসঙ্গে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার এই ঘটনাকে ‘জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি’ দিতে দাবি জানিয়ে আসছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রথমবারের মতো দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধানেরাসহ নিহত হওয়া সেনা সদস্যদের স্বজনরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পর্যায়ক্রমে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অতিথিরা অংশ নেন।
প্রতিবারের মতো দিনটি পালিত হলেও এবারের দিনটিকে ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫৭ জন অফিসারসহ মোট ৭৪ জন শাহাদাতবরণ করেছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য এসেছি, প্রতি বছরই আসা হয়। কিন্তু এবার একটু ডিফরেন্স হলো- এবার থেকে এটা শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হয়েছে। আমরা শহীদ সেনা দিবসে এখানে আসছি। শহীদদের পরিবাররাও আসছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য।’ সঠিক বিচার নিয়ে স্বজনদের ‘অভিযোগ’ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সঠিক বিচার যেন হয়, সেজন্য তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তাদের রিকমন্ডেশনের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী অ্যাকশন নেব। দিবসটি উপলক্ষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।