দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে প্রত্যেক জেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব অফিস করার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। ডিসি সম্মেলনে দুদকের সঙ্গে অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন ডিসিরা। এ ছাড়া নিয়োগে পৌষ্য কোটা বাতিল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের কাছে। দুদকের কাছে সাতক্ষীরা, নরসিংদী ও বান্দরবানের ডিসি প্রস্তাব দিয়েছেন, সব জেলায় দুদকের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে জনবল নিয়োগেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। প্রস্তাবের পক্ষে তাঁদের যুক্তি, প্রতিটি জেলায় দুদকের অফিস থাকলে দুর্নীতি দমনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনেক জেলায় অফিস না থাকায় দূরবর্তী জেলা থেকে অফিসারদের এসে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে দাপ্তরিক কাজে গতি কমে যাচ্ছে।
নিজস্ব অফিস থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলার সব দপ্তরের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিস/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। এর মধ্যে অন্যতম রেলের নিয়োগে পৌষ্য কোটা বাতিল। জানা গেছে, এখন রেলে ৪০ শতাংশ পৌষ্য কোটা রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের চাকরিতে ‘পোষ্য কোটা’-সম্পর্কিত যে বিধান রয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাই কোর্ট।
৪০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের কারণে সমাজের অনগ্রসর অংশ আরও পিছিয়ে পড়ছে। দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষকদের সন্তানরা সরকারি চাকরিতে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। কোটার কারণে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। তাই কোটাপদ্ধতি বাতিল চেয়ে খাগড়াছড়ির ডিসি বলেছেন, পোষ্য কোটা বাতিল হলে সব প্রতিষ্ঠানে মেধাবীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। ছাত্র-জনতা সর্বাত্মকভাবে কোটাব্যবস্থা বাতিলসহ একটি বৈষ্যম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অংশ নেন। অথচ এখনো রেলওয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে পোষ্য কোটা রয়েছে। তিনি বলেন, কোটা বাতিলে বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে বৈষম্যহীন সমাজ।
যশোরের ডিসির প্রস্তাব, ঝিকরগাছা উপজেলায় গদখালীর পানিসারা রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের স্টপেজ দরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রেনে একটি করে বগি শুধু ফুল পরিবহনের জন্য রাখার প্রস্তাব করেছেন তিনি। পরিবহন ব্যয় কমাতে পারলে ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে রেলস্টেশনকেন্দ্রিক ব্যবসাবাণিজ্য গড়ে উঠবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের ডিসি। এতে অনেক সময় বেঁচে যাবে। ঢাকা-সিলেট রেল যোগাযোগ সহজতর হবে বলে তার যুক্তিতে তুলে ধরেন।