কিয়েভের ওপর বিরক্ত হলেও ইউক্রেনের খনিজসম্পদে মার্কিন বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত করার একটি চুক্তি এখনো সম্ভব বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে দেশটিকে হাজার হাজার কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনায় সেই অর্থ ফেরত আনার একটি উপায় হতে পারে ইউক্রেনের সঙ্গে একটি খনিজ চুক্তি। রয়টার্স জানায়, সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- চুক্তিটির সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে কি না। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘না, আমার তা মনে হয় না।’ ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় ধরনের চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।-রয়টার্স
গতকাল রাতে মার্কিন কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ওই সময় তিনি চুক্তিসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে চাইছেন। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সমর্থন পাওয়ার জন্য সচেষ্ট হয় কিয়েভ। আর তাতে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ নিয়ে দুই দেশের চুক্তির পথ সুগম হয়েছিল। এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও খনিজ চুক্তি চূড়ান্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান জেলেনস্কি। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে খনিজ চুক্তির বিস্তারিত খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা ও তা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ছিল। চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে আগেই মতৈক্য হলেও জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার চুক্তি চূড়ান্ত করা এবং তা সই করার আগে দিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল দপ্তরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা পরই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতা বাগবিতাণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এতে বৈঠক ভেস্তে যায় আর বহু প্রত্যাশিত খনিজ চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যায়। ইউক্রেনের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ যৌথভাবে নিষ্কাশন ও ব্যবহার করার জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওই চুক্তি হওয়ার কথা। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ফের ভালো হবে বলে আশা করেছিল ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।