ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এছাড়া হামলায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় ইউক্রেনে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংঘাত চলছে এবং নানা প্রচেষ্টার পরও সংঘাত প্রশমিত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় শিশুও রয়েছে। খারকিভ এবং ওডেসাসহ অন্যান্য অঞ্চলে বাড়িঘর এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে রাশিয়ার হামলা বেশ তীব্রতর হয়েছে, কারণ কিয়েভকে সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার সর্বশেষ হামলার পর পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন: ‘যখন কেউ বর্বরদের তুষ্ট করে তখন এটিই ঘটে। আরও বোমা, আরও আগ্রাসন, আরও হতাহত।’
বিবিসি বলছে, শুক্রবার গভীর রাতে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ডোব্রোপিলিয়া শহরে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা চালানো হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটটি আবাসিক ভবন এবং একটি শপিং সেন্টারে আঘাত করলে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়।
জরুরি পরিষেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর রাশিয়া ‘উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে’ আরেকটি হামলা চালায় বলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একটি টেলিগ্রাম পোস্টে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের হামলা এটিই দেখায় যে- রাশিয়ার লক্ষ্য অপরিবর্তিত।’
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার এবং শনিবার এই অঞ্চলে অন্যান্য হামলায় আরও নয়জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া শনিবার ভোরে খারকিভ অঞ্চলের বোহোদুখিভে একটি কোম্পানিতে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেনন বলে আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ সিনেহুবভ জানিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/শআ