রাশিয়ার হামলার মুখে পালিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে আশ্রয় পাওয়া প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনীয়র বৈধ অভিবাসনের মর্যাদা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এমন পদক্ষেপের ফলে এই ইউক্রেনীয়দেরকে দ্রুতই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আশঙ্কা আছে।
এতে করে ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো এই ইউক্রেনীয়রা আগের সেই নীতি বিস্ময়করভাবে উল্টে যেতে দেখবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিলেই ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারে।
গত শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউজের বৈঠকে প্রকাশ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় ট্রাম্পের। তার আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউক্রেনীয়দের আইনি সুরক্ষা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।
জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া সাময়িক মানবিক আশ্রয় কর্মসূচির আওতায় থাকা ১৮ লাখের বেশি অভিবাসীর আইনি মর্যাদা বাতিলের চেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য রয়টার্সের এই প্রতিবেদন নাকচ করে বলেছেন, “এখনও কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।” যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বুধবার বলেছিলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ওদিকে, ইউক্রেনের সরকারি সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
তবে অভিবাসীরা উদ্বেগে পড়েছে। ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া লিয়ানা আভেতিসিয়ান ও তার পরিবার এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
২০২৩ সালে কিইভ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই পরিবার আইওয়ার ডিউইট শহরে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। মে মাসে তাদের প্যারোল ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে।
সূত্র : রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ