ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি স্থগিত করায় নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে হামাস। প্রতিরোধ যোদ্ধারা বলেছে, জিম্মিদের হস্তান্তর অনুষ্ঠান ‘অপমানজনক’ বলে করা দাবিটি মিথ্যা। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর এটি একটি অজুহাত মাত্র।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জাত এল রাশক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ব্যাহত করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে এবং এর শর্তাবলীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রতিনিধিত্ব করে। তার বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে দখলদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতার অভাব দেখা গেছে।
শনিবার হামাসের হাতে বন্দি থাকা ছয় জিম্মিকে মুক্তি দেয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এদিন ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় রবিবার ভোররাতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, ইসরায়েল ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দি স্থগিত করেছে।
হামাসের এল রাশক বলেছেন, অনুষ্ঠানগুলোতে জিম্মিদের কোনও অপমান করা হয়নি, বরং তাদের প্রতি মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। হামাস জিম্মিদের জনতার সামনে মঞ্চে হাজির করেছে এবং কখনও কখনও হস্তান্তরের আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। জিম্মি দেহাবশেষসহ কফিনগুলোও ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ গাজা উপত্যকায় ‘যেকোনও মুহূর্তে’ যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। এ সময় তিনি যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো ‘আলোচনার মাধ্যমে হোক বা অন্য উপায়ে’ অর্জন সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি বন্ধ করার একদিন পর নেতানিয়াহু কমব্যাট অফিসারদের জন্য একটি অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা যেকোনও মুহূর্তে তীব্র লড়াই আবার শুরু করতে প্রস্তুত। গাজায়, আমরা হামাসের বেশিরভাগ সংগঠিত বাহিনীকে নির্মূল করেছি কিন্তু এতে কোনও সন্দেহ নেই- আমরা সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য পূরণ করব।” সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ