রোজা মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার কুপ্রবৃত্তি ও নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। সোনা, রুপা আগুনে পোড়ালে খাঁটি হয়, তেমনি রমজানের দহনে সিয়াম সাধক পাপমুক্ত হয়ে জান্নাতি মানুষে পরিণত হয়। এ মাস পেয়েও যারা জীবনের মোড় পাল্টাতে পারেনি, লাভ করতে পারেনি জাহান্নাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, তাদের ধ্বংস অবধারিত। তাদের জন্য রয়েছে জিবরাইল (আ.)-এর অভিশাপ। আর এই ধ্বংসাত্মক দোয়ায় আমিন বলে সমর্থন দিয়েছেন মহানবী (সা.)। অথচ রহমতে আলম প্রিয় নবী (সা.) স্বাভাবিকভাবে কাউকে অভিশাপ দেন না। বদদোয়া করেন না তিনি চিরশত্রুর জন্যও।
এক দিনের ঘটনা। রসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে আরোহণকালে বলেন, আমিন, আমিন, আমিন। মহানবী (সা.)-এর কাছে ঘটনার রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসেছিলেন। আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি তখন তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েছে কিন্তু তার গুনাহগুলো মাফ করাতে পারেনি সে ধ্বংস হোক। আপনি বলুন আমিন। তখন আমি বললাম আমিন। (কবুল করুন)। অতঃপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তখন তিনি বলেন, যার কাছে আপনার নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কিন্তু সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করেনি সে ধ্বংস হোক। আপনি বলুন আমিন। তখন আমি বললাম আমিন। যখন আমি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তখন তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতা উভয়জনকে অথবা তাদের কোনো একজনকে জীবিত পেয়েছে অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না সে ধ্বংস হোক। আপনি বলুন আমিন, তখন আমি বললাম আমিন।’ (আল কওলুল বাদীউ)
ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) পরপর উল্লিখিত তিন ব্যক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। আর মহানবী (সা.) এতে বলেছেন আমিন। হে আল্লাহ আপনি কবুল করুন। এই বদদোয়া যে কবুল হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমাদের চিন্তা করা প্রয়োজন, আমরা এই বদদোয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছি কি না? চিন্তা করা প্রয়োজন আমাদের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে কোনো অবহেলা স্থান পেয়েছে কি না? প্রয়োজন সবাই যথাসময়ে সচেতন হওয়া। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার ক্ষেত্রে কোনো মুসলমান অবহেলা করতে পারে না। অবহেলা করতে পারে না মাতা-পিতার কল্যাণের ক্ষেত্রে। আর যারা রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মাস রমজানের সুবর্ণ সুযোগ অবহেলায় হারাবে তারা আল্লাহর যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে। তাই সুযোগ থাকতে ফিরে আসা প্রয়োজন। প্রয়োজন তওবা করে ইবাদত বন্দেগিতে যথাসাধ্য মনোযোগী হওয়া। সব ধরনের পাপাচার বর্জনের জন্য সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা।
লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।