মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর প্রধান আতাউল্লাহ আবু জুনুনী ও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল আদালতের নির্দেশে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও র্যাব বলছে, ১৭ মার্চ ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকার বাড়িতে গোপন বৈঠক করছেন কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি-এমন খবরে সেখানে অভিযান চালায় র্যাব-১১-এর একটি দল। ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আতাউল্লাহসহ তার পাঁচ সহযোগীকে। উদ্ধার করা হয় নগদ ২১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। আতাউল্লাহ (৪৮) মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মৃত মৌলভি গোলাম শরিফের ছেলে। অন্যরা হলেন আরাকান রাজ্যের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মোস্তাক আহাম্মদ (৬৬), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আতিকুল ইসলামের ছেলে মনিরুজ্জামান (২৪), মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মৃত আবদুল আমিনের ছেলে সলিমুল্লাহ (২৭), সলিমুল্লাহর স্ত্রী আসমাউল হোসনা (২৩) ও আরাকান রাজ্যের নুর আলমের ছেলে মো. হাসান (১৫)। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নাশকতার দুটি মামলা করে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতাসহ নানা অপরাধের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর গতকাল তাঁদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দুই মামলায় তাঁদের পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, আসামিরা নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকা সংঘটনের জন্য গোপন বৈঠক করছিলেন। র্যাব ও পুলিশ জানতে পেরে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।