জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আট বছরের এক শিশুর নিরাপত্তা দিতে পারি নাই; এ লজ্জা আমার, এ দেশের, এ জাতির। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে অভ্যুত্থান করেছিলাম, তা এখনো পূরণ হয়নি। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার অনুপস্থিতির কারণে সমাজে আজ এত অধঃপতন। মানুষ যদি আল্লাহকে ভয় করে, তবে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এ জন্য বাংলাদেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা জরুরি। গতকাল বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই। এর মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এই মতপার্থক্যই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দেশপ্রেমিকরাই বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এই দেশকে রক্ষা করেছে। আর যারা দেশকে ভালোবাসে না তারা পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, যারা আমাদের দেশের নাগরিক মনে করত না, তারাই দেশত্যাগ করেছে। যাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে, তারা কখনো দেশ ছেড়ে পালায় না। গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মতবিরোধ থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ?ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন ফারুক, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, হাসনাত আবদুল্লাহসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
অপসংস্কৃতির কারণে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আজকে অপসংস্কৃতির কারণে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার। যদি ইসলামী শাসনব্যবস্থা থাকত তাহলে এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যেত। ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সমাধান করে রায় কার্যকর করতে হবে। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডী গ্রামে সম্মিলিত গোরস্থানে তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মাগফিরাত অনুষ্ঠানে এমব কথা বলেন তিনি। পরে শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এম বি বাকেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন। এরপর জামায়াতে আমির আছিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে এসেছি, তাদের প্রতি সহানভূতি প্রকাশ করতে এসেছি। আমরা এ হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত দেখতে চাই। বিচার কার্যকর হয়েছে এটাও দেখতে চাই। তাহলে এ পরিবার হয়তো মানসিক সান্ত্বনা পাবে, দেশবাসী সান্ত্বনা পাবে।