জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে যে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের সেই প্রস্তাবিত জুলাই সনদ আমরা দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিবিদ, ছাত্র-শ্রমিক, পেশাজীবী, অ্যাকটিভিস্ট, ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আমাদের মধ্যে ঐক্য ও মিলনের জায়গা তৈরি করেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে জাগ্রত করেছে। আমরা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য, তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সম্পর্ক, সংলাপ ও মিথস্ক্রিয়ায় যেন কোনো ছেদ না পড়ে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া ফ্যাসিবাদকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। আমরা যেন ভুলে না যাই যে, দেশের বিপদ এখনো কাটেনি। বাংলাদেশবিরোধী শক্তিরা এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদ ও অভ্যুত্থানের শক্তিদের মধ্যে অনৈক্য এবং সামরিক, বেসামরিক, আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও ষড়যন্ত্রকারী বৈদেশিক শক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারে।
এনপিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য-আদর্শ নিয়ে জনগণের কাছে যাব। আমাদের মধ্যে নীতিগত বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু জুলাই গণ অভ্যুত্থান আমাদের মধ্যে যে ঐক্যের জায়গা সৃষ্টি করেছে সেখান থেকে আমরা কখনোই সরে যাব না। জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশের শাসন কাঠামোর পরিবর্তন চায়। মৌলিক এবং গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চায়। এ জন্য আমরা নতুন সংবিধানের মাধ্যমে একটি নতুন রিপাবলিকের কথা বলছি। গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের স্বপ্ন আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত বিচার আমাদের সবারই প্রত্যাশা। তাদের দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই। বিচারের মাধ্যমে আমরা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফায়সালা করতে চাই। জনগণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনের যে নির্বাচন সেটিকে একই সঙ্গে আইনসভা এবং গণপরিষদ নির্বাচন আকারে আয়োজন করা সম্ভব। নির্বাচনের আগে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। এককভাবে শুধু সরকারের পক্ষে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক এবং অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ, মিডিয়া এবং আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা প্রয়োজন।