ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ছাড়ানোর দাবিতে থানায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল মানুষ, যারা নিজেদের ‘তৌহিদী জনতা’ বলে দাবি করেছেন। গতকাল দুপুরে আদালত গ্রেপ্তারকৃতকে জামিন দেন এবং তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল করে তৌহিদী জনতা! তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত কর্মচারী লাইব্রেরির সহকারী বাইন্ডার মোস্তফা আসিফ অর্ণবের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান। তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, তদন্ত কমিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করবে। ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত সবার সঙ্গে কথা বলবে এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে যা যা করার তা করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট অভিযুক্তের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত চাকরিতে থাকতে পারবে না। বুধবার শাহবাগ থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে এক ব্যক্তি হেনস্তা করেছে বলে ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। হেনস্তার শিকার ওই ছাত্রীর ফেসবুক পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পোস্টের সঙ্গে হেনস্তাকারীর ছবিও জুড়ে দিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। তাতেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোস্তফা আসিফ অর্ণব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার। অর্ণবকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে শাহবাগ থানার দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ বলেন, এ ছেলেটি এক ছাত্রীকে হেনস্তা করেছিল। পরে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেন এবং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এরপর বুধবার ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ছেলেটি পোশাক নিয়ে হেনস্তা করলে মেয়েটি প্রথমে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন এবং পরে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেন। তাকে (অর্ণব) প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হলে হেনস্তা করার বিষয়টি সে স্বীকারও করে। এরপর তাকে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয় এবং গ্রন্থাগারকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। এদিকে অর্ণবকে মুক্ত করতে রাত ১টার দিকে শাহবাগ থানায় জড়ো হয় একদল ব্যক্তি, যারা নিজেদের ‘তৌহিদি জনতা’ দাবি করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থানের ঘোষণা দেয়। ‘তৌহিদি জনতা’ গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত শাহবাগ থানা অবরোধ করে রাখে। দুপুরে অর্ণবকে জামিন দেন আদালত। তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব। জামিন পাওয়ার পর আসিফ অর্ণবকে ফুলের মালা পরিয়ে হাতে পবিত্র কোরআন দিয়ে মিছিল করে ‘তৌহিদি জনতা’ নামে শাহবাগ থানা অবরোধকারী সেই ব্যক্তিরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের এক নারী শিক্ষার্থীকে যে ব্যক্তি হেনস্তা করল তাকেই ইসলামের রক্ষাকর্তা বানিয়ে মাথায় তুলে নাচছে একদল ব্যক্তি যারা নিজেদের তৌহিদি জনতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। নিপীড়নকারীর যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।