অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকের পক্ষেই রোজা রাখা সম্ভব হয় না। শরিয়তের বিধান হলো, রমজান মাসে কোনো কারণে রোজা রাখা না গেলে বছরের অন্য সময়ে সে রোজাগুলো কাজা আদায় করবে। কিন্তু যাদের পক্ষে কাজা আদায় করাও সম্ভব নয়, তাদের ক্ষেত্রে রয়েছে ফিদিয়ার বিধান। ফিকহের কিতাবে লেখা আছে, যে বৃদ্ধ বা অসুস্থ-অসমর্থ-দুর্বল ব্যক্তির রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করতে পারবে এমন সম্ভাবনাও নেই, সে রোজার পরিবর্তে ফিদয়া দেবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রোজা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্য। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন রোজা রাখবে। আর রোজা রাখা যাদের জন্যে খুব কষ্টকর, তাদের সামর্থ্য থাকলে ‘ফিদিয়া’ বা বিনিময় অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করবে। আর যদি কেউ আনন্দিতচিত্তে আরো বেশি সৎকর্ম করে, তবে তা তার জন্যে অতিরিক্ত কল্যাণ বয়ে আনবে। তবে রোজা রাখা তোমাদের জন্যে সবচেয়ে বেশি কল্যাণের, যদি তোমরা জানতে।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৪।) প্রখ্যাত তাবেয়ি ছাবেত বুনানী (রহ.) বলেন, আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না তখন তিনি রোজা না রেখে ফিদয়ার খাবার দিতেন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক।) ইকরিমা (রহ.) বলেন, ‘আমার মা প্রচন্ড তৃষ্ণা-রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তাঁর সম্পর্কে আমি তাবেয়ি তাউসকে (রহ.) জজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘প্রতি দিনের জন্য একজন মিসকিনকে এক মুদ (বর্তমান হিসাবে পৌনে দুই কেজি) পরিমাণ গম প্রদান করবে’।’(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক।) একটি রোজার পরিবর্তে একটি ফিদয়া ফরজ হয়। এক ফিদয়া হল, একজন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা। হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়্যেব (রহ.) বলেন, ‘আর রোজা রাখা যাদের জন্যে খুব কষ্টকর, তাদের সামর্থ্য থাকলে ‘ফিদিয়া’ বা বিনিময় দেবে’- আয়াতটি রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য প্রযোজ্য।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক।)
বৃদ্ধ ও অসমর্থ-দুর্বল ব্যক্তি ছাড়াও আরো কয়েকজন ব্যক্তি শর্তসাপেক্ষে রোজা না রেখে ফিদয়া দিতে পারবে। এদের মধ্যে মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিনী নারী অন্তর্ভূক্ত। ফকিহদের বক্তব্য হল, এরা রোজা ভাঙতে পারবে। তবে পরবর্তীতে কাজা আদায় করবে। যতদিন জীবিত এবং সুস্থ্য থাকবে ততদিন তারা রোজা আদায়ের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবে না। কিন্তু যদি এমন হয় মুসাফির সফর থেকে ফিরে আসতে পারেনি এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিনী রোজা কাজার আগেই মৃত্যুবরণ করল বা স্থায়ী অসুস্থ হয়ে গেলো; তাহলে তাদের রোজার বিনিমিয় ফিদয়া দিতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘গর্ভবতী নারী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিনীর জন্য রমজানে রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। এক্ষেত্রে বিধান হল তারা ফিদয়া আদায়করবে না; বরং রোজাগুলো কাজা করে নেবে।’
লেখক : প্রিন্সিপাল, সেইফ এডুকেশন ইনস্টিটিউট
পীর সাহেব, আউলিয়ানগর, www.selimazadi.com