সুজন সম্পাদক ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গণ অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিশুদ্ধ করে জনকল্যাণমুখী-আদর্শভিত্তিক করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে, যাতে দেশে আর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরে না আসে এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটে।
গতকাল সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে ‘অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’-এর দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। মানববন্ধনে দ্রুত সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সুজন সম্পাদক বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার জন্যও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- সুজনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাশিদা আক্তার শেলী, সুজন ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুল হক, সুজন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ স¤পাদক জুবাইরুল হক নাহিদ, ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম স¤পাদক মোহাম্মদ সেলিম, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির অর্থ স¤পাদক কানিজ ফাতেমা, সুজন কেরানীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সহসভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
মানববন্ধনে সুজন নেতারা বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চারদিক থেকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাট, নারী ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইত্যাদির খবর আসছে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলা অবস্থায় সৃষ্ট অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। মানববন্ধন থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুজনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনা; নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সারা দেশে সৃষ্ট অরাজকতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা; অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা; অপরাধীদের রক্ষার বদলে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা; দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা; অবিলম্বে মব-কালচার বন্ধ করা; নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধ করা; ফ্যাসিবাদ দমনে ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করা; সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা; গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা; দ্রুত সংস্কার করে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও শোষণমুক্ত দেশ গড়ে তোলা; গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা; সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করা; সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অঙ্গীকার নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক দল স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদ (সমঝোতা স্মারক) তৈরি করা, যে জাতীয় সনদই হতে পারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মূল দলিল; রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা; ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা নিষিদ্ধ করা; অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ না করা এবং দ্রুত সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পাশাপাশি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।