ভারত বছরের পর বছর তিস্তা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করেছে। যার মাশুল দিচ্ছে বাংলাদেশের পাঁচ জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ ফসল ফলাতে পারে না। আবার বন্যার সময় হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেওয়ায় ব্যাপক এলাকা ভাঙনের শিকার হয়। ভারতের পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে তিস্তার পানিতে নেমে ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করে। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা রেল সেতুসংলগ্ন নদীতে নেমে কয়েক হাজার মানুষ এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি শুরু হয়। তিস্তা নদীবেষ্টিত পাঁচটি জেলার ১১টি স্থানে একসঙ্গে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।
লালমনিরহাট : প্রায় এক ঘণ্টা তিস্তার পানিতে অবস্থান করেন কয়েক হাজার মানুষ। প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব (দুলু), সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
আসাদুল হাবিব বলেন, ‘বহমান তিস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু পানি নেই। তিস্তা মরুভূমি হয়ে গেছে। বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদযাত্রায় আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করে যাচ্ছি।
কুড়িগ্রাম : জেলার উলিপুরে ও রাজারহাটে দুটি স্পটে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টা কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনেও দিনব্যাপী নানা আয়োজন ছিল। উলিপুরে তিস্তা নদী পাড়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তিস্তায় পানি না পেয়ে প্রতি বছর ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল কম উৎপাদন হচ্ছে। ভেঙে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। জীবন বাঁচাতে প্রতি বছর তিস্তাপাড়ের মানুষ বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিস্তায় পানি আনতে বিএনপি অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
গাইবান্ধা : ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ এই স্লোগানে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল ছিল তিস্তাপাড়। আন্দোলনকারীরা পালাগান, ভাওয়াইয়া ও লোকসংগীতের সুরে তুলে ধরছেন তাদের আকুতি ‘তিস্তা বাঁচাও, জীবন বাঁচাও’।