বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ঠিক করবে। দেশে নির্বাচন যত দেরি হবে, সমস্যা তত বাড়বে বৈ কমবে না। কাজেই আমরা জনগণের অধিকার যত দ্রুত জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব, তত দ্রুত আমরা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলন চলাকালে গণ অভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আহত ফটোসাংবাদিক এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহসম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক বুলবুল আহমেদ, তারিফ রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের যত দেরি হবে সমাজের মধ্যে বিভিন্নভাবে তত বেশি ষড়যন্ত্রের ডালপালা বাড়তে থাকবে। এখনই বিভিন্ন রকম কথাবার্তা ছড়াতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে, তারা দেশের মানুষের বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। অবশ্যই তারা সেই সম্পদগুলো সেই ষড়যন্ত্রের পেছনে ব্যয় করবে। কাজেই দেশকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে হলে, দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধরে রাখতে হলে, দায়িত্ব অবশ্যই জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ৮০ জন ফটোজার্নালিস্ট আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সেদিন সর্বস্তরের মানুষ নেমে এসেছিল। দুই মাসের আন্দোলনে কী পরিমাণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, কী পরিমাণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তার কিছুটা চিত্র জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ৬০ জন শিশু শহীদ হয়েছে এই দুই মাসে। তাহলে গত ১৫ বছরে কত মানুষ খুন, গুম হয়েছে? নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক মানুষকে দমিয়ে রাখা হয়েছিল। আপনাদের সাংবাদিকদেরও দমিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁরা লিখতে চেয়েও অনেক কিছু লিখতে পারেননি। আপনারা ফটোজার্নালিস্টরা ফটো তুলে প্রকাশ করতে পারেননি। অথচ একটা ছবি অনেক ঘটনা প্রকাশ করে দিতে পারে।’
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার : একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ খালাসপ্রাপ্ত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০ বছর আগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার এ মামলায় গত ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায় বাতিল করে মামলার সব আসামিকে খালাস দেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রশীদ মোল্লা বলেন, ‘মামলায় তারেক রহমানসহ খালাস পাওয়া বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক ছিলেন। রায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আগের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন আদালত।
হাই কোর্টের সে আদেশ বিচারিক আদালতে এলে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তারেক রহমানসহ অন্যদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করি। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন।’ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোড়ন তুলেছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা। ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দ বিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা দুই মামলার রায় দেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। সে রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ দেওয়া হয়। আর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদ । এ ছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ দিয়েছিলেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।