নারাণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যৌতুক না দেওয়ায় উর্মি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী পারভেজ (২৮) এর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ উর্মি আক্তার। পরবর্তীতে থানায় মামলা নিতে অসম্মতি জানালে ভুক্তভোগীর পরিবার গত বৃহস্পতিবার জেলা কোর্টে মামলা করেছে বলে জানান ভুক্তভোগীর পরিবার।
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগ পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামীর বাড়িতে গেলে ঘটনার সত্যতা পাই। তবে মামলা নেয়া হবে কিনা তা নিয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে হবে।
ভুক্তভোগী উর্মি আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, উপজেলার কুরবানপুর এলাকার মাদলাপাড়া গ্রামের ছায়েব আলীর ছেলের সাথে ৯ মাস পূর্বে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকাসহ ৫ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। এর কয়েক মাস পর শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু গৃহবধূ যৌতুকের টাকা দিতে অসম্মতি জানালে এক পর্যায়ে গত রবিবার ঘরে আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ ধরে তার ওপর অমানুসিক নির্যাতন চালায়। পরে তার মা ও বোনকে মুঠোফোনে জানালে ঐদিনই তাদের সাথে কথা বলতে আসলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধর করে এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে 'দা' দিয়ে মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। ভুক্তভোগী উর্মির মা ও বোনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা। তাদের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনাস্থলে আহত ভুক্তভোগীর বড় বোন মৌসুমী আক্তার বলেন, গত কয়েকমাস ধরেই বোনের যৌতুকের দাবিতে বোন জামাইসহ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি নির্যাতন করে আসতো। গত ৯ই মার্চ ছোট বোনকে নির্যাতনের কথা শুনে তাদের বাড়িতে গেলে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং আমার বোনকে হত্যার উদ্দেশ্যে 'দা' দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারী জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়েছি। তাদের সাথে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল