১৭ বছরেও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ না হওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, "২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও দীর্ঘ ১৭ বছরেও স্থায়ী ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।"
তারা আরও জানান, কক্সবাজারের প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাড়তি চাপও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নিউরোসার্জারি, হেমাটোলজি, হেপাটোলজি, সাইকিয়াট্রি, এনআইসিইউ, বার্ন ইউনিটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ না থাকায় রোগীদের প্রায়ই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যা ১৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ব্যয়বহুল।
শিক্ষার্থীরা জোরালোভাবে দাবি জানান, "আধুনিক ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হলে কক্সবাজারের জনগণ ও পর্যটকদের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।"
মানববন্ধনে কক্সবাজার ইন্টার্ন ডক্টরস মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. হিশাম, ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী আছিবুল হক, মিজানুর রহমান, আহসান সাকীক, ফাহিম হাসান নিলয়, রাহাত হোসাইন, শাহাদাত হোসাইন হৃদয়সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন কিংবা গবেষণা চর্চা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও, পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। কক্সবাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন, কিন্তু উন্নত চিকিৎসাসেবার অভাব রয়েছে। আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন হলে পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হবে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন কেবল শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবে না, বরং বৃহৎ জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার দ্বার উন্মোচন করবে। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক