খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তরা। ফাটল ধরেছে দেয়ালে। যে কোনো সময় ভবন ধসে পড়তে পারে এমন আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থা কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত মিঠামইন উপজেলার বোরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৪ জন। ২০১৮ সাল থেকেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে এবং পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। একাধিকবার সংস্কারও করা হয়েছে। অভিযোগ আছে নির্মাণ কাজ এত নিম্নমানের কাজ হয়েছে, এখন সংস্কারও করেও লাভ হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেষ চন্দ্র দাস জানান, ১৯৫৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। তখন এখানে টিনের ঘর ছিল। ১৯৯৮ সালে টিনের ঘরের স্থলে নির্মাণ করা হয় একতলা ভবন। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ২০ বছরেই ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে থাকে। সরকারি অনুদানে একাধিকবার সংস্কারও করা হয়েছে। এখন সংস্কারেরও উপযোগীও নেই। শ্রেণি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও ক্লাস চলাকালে ছাদের ঢালাইয়ের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। অল্পের জন্য বেঁচে যান সহকারী শিক্ষিকা মেরিনা রাণী দাস। এরপর থেকে আতঙ্কে আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে এসে তারা ভয়ে থাকে- কখন কী ঘটে। তারা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। বিঘিœত হচ্ছে পড়ালেখা। সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ জানান, বিদ্যালয় ভবনের এমন নাজুক অবস্থা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ভিতরে গেলেই বোঝা যাবে কত ভয়াবহ অবস্থা।
হাওর উন্নয়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভবন ৮০-১০০ বছর টেকসই হওয়ার কথা। মাত্র ২০ বছরেই কেন ঝুঁকিপূর্ণ হবে? বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিব আলম জানান, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। আপাতত নতুন কর্মসূচির জন্য সুপারিশ করা যাচ্ছে না। কর্মসূচি-৫ চালু হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি তালিকাভুক্ত করা হবে।