বসবাসের অযোগ্য ঘর, উপার্জনের ব্যবস্থা না থাকাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা না থাকায় ভালো নেই দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের সুলতানপুর আবাসন প্রকল্পে বাস করা শতাধিক পরিবার। মেরামত না করায় ঘরের টিন ফুটো হয়ে পানি পড়ে। নানা সমস্যায় ইতোমধ্যে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন আবাসনের অধিকাংশ মানুষ। বোচাগঞ্জের এ দুইটি আবাসন প্রকল্পে ২৯০টি পরিবার ছিল। এর মধ্যে বর্তমানে শতাধিক পরিবার জীবনের তাগিতে কোনোমতে জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করছেন। আবাসন ছেড়ে চলে যাওয়া পরিবারগুলোর পরিত্যক্ত ঘরে বহিরাগত এক শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বোচাগঞ্জের সুলতানপুর গ্রামে ২০০০ সালে প্রায় ৯ একর খাস জমির ওপর প্রথমে আবাসন-২ এ ৬টি ব্যারাকে ৬০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেসঙ্গে প্রতি ১০ পরিবারে চারটি ল্যাট্রিন ও একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০০৫ সালে একই জায়গায় আবাসন-৩ এ ১০টি ব্যারাকে ২৩০টি পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেসঙ্গে আবাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার জন্য দুটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়। তবে কমিউনিটি সেন্টার দুইটি এখন পরিত্যক্ত। আবাসন-২ এর বাসিন্দা আনসার আলী জানান, প্রথমে তিনিসহ ৬০টি পরিবার ২০০০ সালে এখানে বসবাস শুরু করেন। প্রথমে ভালো থাকলেও কয়েক বছর ধরে আবাসনের ঘরবাড়ি মেরামত না করায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘরের টিন ফুটো হয়ে পানি পড়ে। বর্ষার সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পেতে বিকল্প পলিথিন দিয়ে কোনোমতে ঘরের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তাদের টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনগুলো নষ্ট। কেউ কেউ টাকা খরচ করে সেগুলো ঠিক করে কোনোমতো ব্যবহার করছেন। এই দুইটি আবাসন প্রকল্পে থাকা ভূমিহীনদের মধ্যে সাঁওতালসহ আদিবাসী, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন।
আবাসনের বাসিন্দা গোলাপ জানান, এখানকার বাসিন্দারা ভূমিহীন। প্রত্যেককে অন্যত্র কাজের সন্ধানে যেতে হয়। কাজ না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। আবাসনের বাসিন্দারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগসুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বছরে দুই-একবার ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল পান তারা।
আবাসন-৩ প্রকল্পে এলাকার শিশুরাও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আবাসন এলাকায় কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশুদের পাশর্^বতী গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে পড়তে হয়। তবে আবাসন-২ প্রকল্পে আশা শিক্ষা কেন্দ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করায় কিছুটা হলেও শিক্ষার আলো পাচ্ছে তারা। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফ হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। তবে সমস্যার বিষয়টি তারা জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।