বগুড়ায় কৃষকের মাঝে আশার আলো ছড়াচ্ছে আমন ধানের সবুজ চারা। সোনালি ধান ফলানোর জন্য মাঠে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে পুরোদমে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও বগুড়া কৃষি বিভাগ।
সরেজমিন দেখা যায়, কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন। কেউবা চাষ দিচ্ছেন। শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে কৃষকরা আমনের চারা রোপণ করে থাকেন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার শিবগঞ্জ, শেরপুর, নন্দীগ্রাম উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমন ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, শাজাহানপুর, আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আমন চাষ করেন কৃষকরা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন।
এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি। বন্যা না হলে ভাদ্র মাসেই রোপণ শেষ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধানের উৎপাদনও অনেক ভালো হবে।
শাজাহানপুর উপজেলার ডোমন পুকুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, এ বছর তিনি ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিন বিঘায় রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, কৃষি অফিস থেকে সরকারের বরাদ্দকৃত সার, কীটনাশকসহ সময়মতো সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে আমনের বাম্পার ফলন হয়।