আওয়ামী লীগের শাসনামলে সামাজিক সুরক্ষা খাতের অর্থ নয়ছয় করার ফলে সমাজে বৈষম্য বেড়েছে। এ ছাড়া অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। দেশে চলমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের নানা দিক তুলে ধরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে দুই দিনের ‘রিকমেন্ডেশনস বাই দ্য টাস্কফোর্স অন রিস্ট্র্যাটেজিং দ্য ইকোনমি’ শীর্ষক সম্মেলন আয়োজন করে সিপিডি। এসব সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি কাটিয়ে ওঠার সুপারিশ করেছেন বক্তারা। সম্মেলনে শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মদদে নৈরাজ্য চলছে বলেও জানানো হয়। শিক্ষিত বেকার ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে দায়ী করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিগত সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ তছরুপের চিত্র তুলে ধরেন টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা। সংকট সমাধানে টাস্কফোর্স কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুরির ক্ষেত্রে একটা অসমতা রয়ে গেছে। একই কাজের জন্য নারীর চেয়ে বেশি মজুরি পাচ্ছে পুরুষ। সম্মেলনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেন বক্তারা। টাস্কফোর্সের সদস্য ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতে আমরা কত ব্যয় করি। এই তথ্যউপাত্ত দীর্ঘদিন ধরে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয়ের প্রক্ষেপণ করা হয় জিডিপির আড়াই শতাংশ বা বাজেটের ১৭ শতাংশ। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কর্মসূচি বাদ দিলে এটি জিডিপির ১.২ শতাংশ ও বাজেটের মাত্র ৭ শতাংশ হয়।
নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। শিক্ষাবিদ রাশেদাকে চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার চাহিদা সর্বস্তরে বিদ্যমান। একজন রিকশাচালকও তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চান। এটি ইতিবাচক। তবে বাস্তবতা হচ্ছে গত ৫৪ বছরে শিক্ষার এই চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারিনি। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এখন এই ব্যর্থতা নিয়ে বসে থাকব, নাকি সামনে আগাব, সে আত্মজিজ্ঞাসা করার সময় হয়েছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদিও ছাত্রদের কারণেই এসেছে, তবে শিক্ষাসংক্রান্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই এ সরকার এসেছে। অথচ নানান সংস্কারের আলাপের মধ্যেও শিক্ষা নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আলাপ-আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা চেষ্টা করছি গুড গভর্নেন্স (সুশাসন)-এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে। পুরোটা হয়তো পারব না। সব ব্যাংকই যে বেঁচে যাবে, এমন নয়। কিছু কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ কোনো কোনো ব্যাংকের আমানতের ৮৭ শতাংশ একটি পরিবারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ড. রুমানা হক বলেন, শিল্পায়ন, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) মূলত নগরবাসীদের সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে ৮৫ শতাংশ জনশক্তি স্বল্প মজুরির কাজে জড়িত, যাদের কর্মসুরক্ষা নেই। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে নানান প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ক্ষেত্রে গুচ্ছ বা ক্লাস্টারভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।