বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বেতিসের মাঠে খেলতে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে শুরতে এগিয়ে গিয়েও ধারহীন পারফরম্যান্সে ম্যাচটি হেরে তিন পয়েন্ট তো খুইয়েছেই। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ব্রাহিম দিয়াসের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধেই সমতা টানেন জনি কার্দোসো। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেন ইসকো।
পুরো ম্যাচে বল দখলে অনেকটাই এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ; কিন্তু তাদের খেলায় একটুও ধার ছিল না। দ্বিতীয় গোল হজমেরও পর নির্ধারিত সময়ের ৩৬ মিনিট বাকি থাকলেও সেটা কাজে লাগানোর মতো কিছুই করতে পারেনি তারা।
গোলের জন্য রিয়াল বেতিস ১৮টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে। সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ শট নিতে পারে মাত্র ৯টি, এর চারটিই শেষ দিকে; মাত্র দুটি শট ছিল লক্ষ্যে।
লা লিগায় চতুর্থ হারের পর বার্সেলোনার চেয়ে তিন পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ে গেল আনচেলত্তির দল। ২৬ ম্যাচে ১৬ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে হান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের প্রথম আট মিনিটের বেশিরভাগ সময় বল ছিল রিয়ালের সীমানায়। পরের মিনিটে ধীর গতিতে ছোট ছোট পাসে আক্রমণে ওঠে তারা। এরপর হঠাৎ ক্ষিপ্র হয়ে ওঠেন এমবাপে এবং দারুণ থ্রু পাস বাড়ান ডি-বক্সে। ছুটে গিয়ে গোলরক্ষককে এগিয়ে আসতে দেখে ডানদিকে বল বাড়ান ফেরলঁদ মঁদি, আর প্রথম ছোঁয়ায় শটে ফাঁকা জালে পাঠান দিয়াস।
গত দুই রাউন্ডে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও গেতাফেকে হারানো বেতিস ধীরে ধীরে চাপ বাড়ায়। ৩৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলও পেয়ে যায় তারা। ইসকোর কর্নারে জোরাল হেডে সমতা টানেন কার্দোসো। বল থিবো কোর্তোয়ার হাতে লেগে জালে জড়ায়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে বৃষ্টির বেগ বাড়তে থাকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেলায় একটু গতিও বাড়ে। বিরতির ঠিক আগে কোর্তোয়ার নৈপুণ্যে বেঁচে যায় রেয়াল; যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার কার্দোসোর হেড ঝাঁপিয়ে কোনোমতে আটকান গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধেও আত্মবিশ্বাসী শুরু করে বেতিস এবং অল্প সময়ের মধ্যে এগিয়েও যায় তারা।
৫৩তম মিনিটে গতিময় আক্রমণে সতীর্থের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হেসুস রদ্রিগেস। তাকে পেছন থেকে আন্টোনিও রুডিগার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দারুণ স্পট কিকে গোলটি করেন ২০১৩ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রেয়ালে খেলা ইসকো।
চার মিনিট পর আবার রেয়ালের রক্ষণে হানা দেয় বেতিস। প্রায় সবাইকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে এই দলে এসে আলো ছড়ানো আন্তোনি। কোনো উপায় না দেখে তাকে ফাউল করে আটকান ডাভিড আলাবা।
প্রবল চাপের মুখে সেভাবে পাল্টা আক্রমণে উঠতেই পারছিল না রেয়াল মাদ্রিদ। তাদের রক্ষণও এলোমেলো হয়ে পড়ে। ৬৮তম মিনিটে আবার হজম করতে বসেছিল গোল, তবে কুচো এর্নান্দেসের শট দূরের পোস্টের বাইরে গেলে হাফ ছাড়ে সফরকারীরা।
সময়ে বয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু এমবাপে-ভিনিসিউসরা যেন খোলস ছেড়েই বের হতে পারছিলেন না। তাদের কারো মধ্যেই দেখা যাচ্ছিল মরিয়া ভাব।
৭৫তম মিনিটে বাধ্য হয়ে এমবাপেকে তুলে নেন কোচ আনচেলত্তি, মাঠে নামেন গত সপ্তাহে কোপা দেল রেতে রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ব্যবধান গড়ে দেওয়া এন্দ্রিক।
মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যে ভালো একটি সুযোগ পান এন্দ্রিক; তবে বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও রাখতে পারেননি তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়েও একটি হাফ-চান্স পান তিনি, কিন্তু এবারও রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।
গত অক্টোবরে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারানো এবং ডিসেম্বরে বার্সেলোনাকে ২-২ গোলে রুখে দেওয়া বেতিস এবারের দুর্দান্ত সাফল্যে লিগ টেবিলেও এগিয়ে গেছে। ২৬ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে উঠেছে ষষ্ঠ স্থানে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম