বাংলাদেশে দেখা মিলেছে নতুন এক সবজির। নাম ডিল। এটি হচ্ছে এপিএসসি ফ্যামিলির, যা গাজর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে ডিল চাষে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, ডিল একটি স্থায়ী প্রাচীন ভেষজ যা প্রাচীনকাল থেকে রন্ধনশিল্পে এবং চিকিৎসা বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যবহৃত হয়। আর শীতপ্রধান দেশে ব্যবহৃত হয় সালাদ হিসেবে। তবে বাংলাদেশ শীতপ্রধান দেশ না হলেও আড়াই মাস আগে গবেষণার জন্য বীজ বপণ করা ডিল গাছটি থেকে এরই মধ্যে ফুল এসেছে। ফুল এবং পাতার গন্ধেও রয়েছে সুগন্ধী এবং তীব্রতা। এটি পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ রাশিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমে আবির্ভাব হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি আরও জানান, এটি কাঁচা ও সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়, স্যুপ ব্যবহার করা যায়। এর পাতা, ফুল, ফল, বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তা অত্যন্ত উচ্চগুণসম্পন্ন অর্গানিক তেল, যা কসমেটিকস শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এটি উদ্ভিজ্জ ও সুগন্ধিযুক্ত হওয়ায় দামও চড়া। অধ্যাপক হারুন আরও জানান, খুব শিগগিরই ফুল থেকে বীজ পাওয়া যাবে। আর সেই বীজ গবেষণার মাধ্যমে নতুুন একটি জাত হিসেবে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। গবেষকরা বলছেন, দেশের মাটিতে ডিল চাষের জন্য অন্যান্য ভেষজ উদ্ভিদের মতোই অতিরিক্ত কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না। এমনকি মাটি জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হলে অতিরিক্ত সারেরও প্রয়োজন হবে না। জানা যায়, গাছটি ১৮ ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট লম্বা হয় এবং এটি একটি মৌরির মতো দেখায়। এটিতে সূক্ষভাবে বিভক্ত নরম নীল-সবুজ পাতা রয়েছে, গাছটি ফার্নের মতো চেহারা দেয়। যদিও এর পাতাগুলো মিষ্টি এবং ঘাসযুক্ত গন্ধ রয়েছে। তবে এর বীজগুলো ক্যারাওয়ে বীজের মতো এবং আরও সুগন্ধযুক্ত।