জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্ব দিলেও এ ব্যাপারে তেমন সুবিধা করা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এর একটি দরপত্রেও সাড়া দেননি। এতে বাধ্য হয়ে পিডিবিকে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বারবার বাড়াতে হচ্ছে।
জানা যায়, ১০ থেকে শুরু করে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সম্মিলিতভাবে ২ দশমিক ৬৩৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এরই মধ্যে পিডিবি এর প্রথম দরপত্র যা গত বছরের ডিসেম্বরের ৫ তারিখ আহ্বান করে। যার সময়সীমা এরই মধ্যে দুবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি জারি করা আরও দুটি দরপত্রের সময়সীমাও প্রথমবারের মতো বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম দরপত্রের জন্য দরদাতারা উল্লেখসংখ্যক নথিপত্র কিনেছেন, কিন্তু কোনো প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দরপত্রের জন্য নথিপত্র বিক্রি চলছে, জমা দেওয়ার সময়সীমা এখন এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাক-বিড সভায় বিনিয়োগকারীদের অনুরোধের পর পিডিবি কর্তৃপক্ষ অনেক শর্ত শিথিল করেছে। প্রয়োজনে আরও সংশোধনী করা হতে পারে। এর পরও বিনিয়োগকারীরা বর্তমান শর্তগুলোকে ‘ব্যাংকযোগ্য নয়’ বলে মনে করেন। তারা সরকারি গ্যারান্টির অভাব ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অসুবিধার কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আইপিপি সেল-১ এর পরিচালক গোলাম মর্তুজা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও এখনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এজন্য দরপত্র আহ্বানে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। দরপত্রে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে কিছু কিছু সংশোধনী করা হয়েছে। এবার বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করবেন এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী, সৈয়দপুর, জামালপুর, পঞ্চগড়, ঈশ্বরদী, গোপালগঞ্জ, ভালুকা, কক্সবাজার, চকরিয়া, পীরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করার কথা। এর মধ্যে বেশির ভাগ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। কোনো কোনো কেন্দ্রের সক্ষমতা সাপেক্ষে বাড়তে পারে উৎপাদনও। এক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্যও নেওয়া হবে ব্যবস্থা। তবে কেউই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ পাবে না। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বিশেষ বিধান ২০১০’ এর অধীনে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দেওয়া হতো। এক্ষেত্রে আগের মেয়াদে কাজ পাওয়া কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন ৪০টি প্রকল্প বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ৪০টি প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।