জনবলসংকট ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে ৩০০-এর বেশি জনবল ঘাটতি রয়েছে। ৪০০টির বেশি যন্ত্রপাতি নষ্ট। রোগীদের পরীক্ষানিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চলছে। রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে ১৯৬৮ সালে ৬৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ভিত্তিপ্রস্তর করা হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৭৬ সালের ১৯ মার্চ ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা করে। ১৯৮৬ সালে উন্নীত করা হয় ৫০০ শয্যায়। এর পর বাড়ানো হয় আরও ১০০ শয্যা। ২০১০ সালে হাসপাতালটি ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল বাড়ানো হয়নি। রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অচল থাকায় হাসপাতালে আসা রোগীরা বাইরে থেকে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের চিকিৎসায় বাড়তি ব্যয় এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। হাসপাতালের এনজিওগ্রাম, ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, সিটিস্ক্যান, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস মেশিন, অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণ মেশিনসহ ৪ শতাধিক মেশিন নষ্ট। এসব যন্ত্রপাতি কয়েক বছর ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে।
এদিকে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৬০ বেডের অত্যাধুনিক ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল। দুটি বেজমেন্টসহ ১৭ তলার হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। চলতি বছরের শেষের দিকে এটি উদ্বাধন হওয়ার কথা রয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালটির আয়তন ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩১২ বর্গফুট।
রংপুরের পীরগাছা সদর থেকে এসেছেন আবদুর রাজ্জাক মিয়া। তার মেয়ে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা ঠিকমতো চললেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে বাইরে থেকে। এ নিয়ে তিনি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। কিডনি ওয়ার্ডে কথা হয় সৈয়দপুর থেকে আসা নাজমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জনবল এবং যন্ত্রপাতি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এসবের কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে তিনি আশা জাগিয়ে বলেন, ১৭ তলা ভবনটি চালু হলে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের উন্নত সেবা পাবে এ অঞ্চলের মানুষ।