খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকের লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় দেশের বেশ কিছু ব্যাংক সম্ভবত লভ্যাংশ দিতে পারবে না। নতুন নিয়ম অনুসারে, ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ এবং একই সঙ্গে নগদ জমা ও বিধিবদ্ধ জমায় ঘাটতির কারণে কোনো ব্যাংকের ওপর আরোপ করা দণ্ডসুদ ও জরিমানা অনাদায়ী থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা; যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বলেছে, জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ফলে তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যতামূলক নগদ জমা বা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) এবং ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ তরল সম্পদ সংরক্ষণের হার (এসএলআর) ঘাটতির কারণে জরিমানা বা জরিমানা আরোপ করা হলে ঋণদাতারা লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবেন না। আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, শুধু বিবেচ্য পঞ্জিকাবর্ষের মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ দেওয়া যাবে। আগের পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে কোনো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কঠোর নিয়মের কারণে অনেক ব্যাংক ২০২৫ সালের জন্য লভ্যাংশ দিতে পারবে না। দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ভালো লভ্যাংশ দিতে সক্ষম হতে পারে। এ পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। কিছু শর্ত কিছুটা কঠোর মনে হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজনে তা শিথিল করা যেতে পারে। তবে, নতুন নিয়ম মেনে চলার ফলে কম লভ্যাংশের জন্য জরিমানাও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অপসারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতি এবং শেয়ারবাজারের জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে আড়াই শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে পারবে সেগুলো তাদের সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে তাদের ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিও সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। যেসব ব্যাংক সাড়ে ১২ শতাংশের অধিক কিন্তু ১৫ শতাংশের কম মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম সেগুলো তাদের সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে তাদের ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিও সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশের অধিক হবে না। এ ছাড়া যেসব ব্যাংকের সাড়ে ১২ শতাংশের কম তবে ন্যূনতম রক্ষিতব্য মূলধন ১০০ শতাংশের বেশি হবে সেগুলো তাদের সামর্থ্য অনুসারে শুধু স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। নতুন এ নীতিমালা চলতি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে যে লভ্যাংশ দেওয়া হবে সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিলম্ব সুবিধা নিয়েছে, তারা ২০২৪ সালের জন্য চলতি বছরে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।