জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনে রাখার দাবিতে ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মীরা সারা দেশে নিজেদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন।
গতকাল ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি কর্মসূচিতে আমরা অফিসের সামনে অবস্থান নেব। সংগত কারণে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী তাতে অবস্থান নেবেন, এ সময় আমাদের কাজ করার সুযোগ নেই।’
মনির হোসেন বলেন, ‘এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন থেকে অন্য কোথাও না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমরা ৫ মার্চ সিইসির (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। দৃশ্যমান পদক্ষেপ আমরা দেখতে চেয়েছি, কমিশনের পক্ষ থেকে পেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। আমরা ঘোষণা করেছিলাম, ১২ মার্চের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে কর্মসূচি দেব। এদিন সংবাদ সম্মেলনের আগ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো অগ্রগতি না পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) সারা দেশে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোতে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ফর এনআইডি’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যেও যদি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় আমরা অ্যাসোসিয়েশনের সবাই আলোচনা করে কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, এনআইডি সেবা ইসির অধীনে থাকবে, এটি যৌক্তিক দাবি। এনআইডি ইসির অধীনে না থাকলে নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হবে- এমন উদ্বেগ যৌক্তিক। এনআইডি আলাদা হলে নির্বাচন ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব মতিয়ুর রহমান, আশরাফ হোসেন, মো. হাসানুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকা ও এনআইডি একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে রাখার পক্ষে ইসির আগের সংলাপগুলোতে অংশীজনরা মতামত দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি আইন করে শুধু এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে নেওয়ার চেষ্টা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান আইনটি বাতিল করে এনআইডি ইসির অধীনেই রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে দেখা যাচ্ছে আলাদা করে একটি কমিশন বানিয়ে এনআইডি তার অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।