বগুড়ার কৃতীসন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্সের সদস্যরা পাক আর্মিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সংবাদের ভিত্তিতে আমিসহ আমার পাঁচটি টিম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। জিয়াউর রহমানের কথা বলে সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ জোগাই। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ঝাঁপিয়ে পড়ার খবরে তারাও ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি টুটুবোর রাইফেল এবং বগুড়া সদর থানায় থাকা গাদা বন্দুক লুট করে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করি। সে সময় পাক আর্মিরা বগুড়া মহিলা কলেজে অবস্থান নেয়। আমরা শহরের কাটনারপাড়া কটন মেইল এলাকায় গ্লাস ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করি। এ গুলিবর্ষণ প্রায় এক মাসের মতো চলতে থাকে। পরে তারা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
চারদিকে তখন যুদ্ধের ডামাডোল। পাকিস্তান এয়ার ফোর্স জেড বিমান দিয়ে আকাশপথে বগুড়ায় মহড়া দেওয়া শুরু করে। একসময় পাকসেনারা এ জেলার ভিতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে পাকিস্তান আমলের সাবেক মন্ত্রী ফজলুল বারীকে হত্যা করে। তখনই আমরা ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। এরপর সাবেক এমপি মোজাফ্ফর হোসেন ও মোস্তাফিজার রহমান পোটলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতে চলে যাই। সেখানে কামারপাড়া ক্যাম্পে পাবনার অধ্যাপক আবু সাঈদ ইনচার্জ ছিলেন। পরে আমাকে সেখানে প্রশাসনিক কর্তকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কামারপাড়া ক্যাম্পে লোকাল ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক বিষয়ও দেখতে হয়। সেখানে একজন সুবেদার মেজর ছিলেন। তাকে আমরা টিক্কা খান বলে ডাকতাম। কিছুদিন চলার পরে আমাদের উচ্চ ট্রেনিংয়ের জন্য কামারপাড়া ক্যাম্পের মাঠে সমবেত করে। সেখান থেকে বাছাই করে আমাকে ও আমার প্রয়াত বড় ভাই আবদুস সালাম বুলবুলকে নেওয়া হয়। পরে আমাদের শিলিগুড়ি বিমান ঘাঁটি হয়ে দিল্লির দেরাদুন নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কমান্ডার ছিলেন জেনারেল ওবার্ট।
মুক্তিবাহিনীর কমান্ডে আমরা পাঁচজন ছিলাম। এরপর আমাকে ৭ নম্বর সেক্টরের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। পাঁচটি মুক্তিযোদ্ধার টিম আমার অধীনে ছিল। তারা বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালান। সরকারি আজিজুল হক কলেজ, পশু হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে পাকসেনাদের অবস্থান ছিল। এসব জায়গায় আমরা রাতে তাদের ওপর আক্রমণ করতে থাকি। এরপর ডিসেম্বরে মিত্রবাহিনী যুদ্ধ করতে করতে বগুড়ার ভিতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় আমরাও প্রবেশ করি। একপর্যায়ে পাকসেনারা গ্রেপ্তার হয়।