রাজধানীর উত্তরখানের পুরান পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় খুন হন হাবীবুল্লাহ্ বাহার কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুর রহমান ভুঁইয়া। এ ঘটনায় তার ভাই মুজাহিদুর রহমান ভুঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে উত্তরখান থানায় মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই ফ্ল্যাটের এক তরুণ দম্পতিকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির একজন কর্মকর্তা। ডিএমপির দক্ষিণখান জোনের এসি মো. নাসিম এ-গুলশান বলেন, উত্তরখানের পুরান পাড়ায় একটি বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে কয়েক মাস ধরে একাই থাকতেন সাইফুর রহমান। তবে ওই ফ্ল্যাটে থাকা একজন তরুণ ও একজন তরুণীকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার (১০ মার্চ) ভোরে তারাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সাইফুর রহমান ওই তরুণ-তরুণীকে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন। তরুণ-তরুণী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তরুণীর দিকে সাইফুর রহমান কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন। আর এ ক্ষোভ থেকেই সাইফুর রহমানকে তারা খুন করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তরুণ-তরুণী এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ (বুধবার) তাদের আদালতে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সাইফুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাথরুম থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। এরপর আশপাশের লোকজন তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জানা গেছে, সাইফুর রহমান হাবীবুল্লাহ্ বাহার কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি কলেজটির ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষও ছিলেন। সাইফুরের স্ত্রী সাদিয়া রেহমান দুই সন্তানকে নিয়ে শান্তিনগর পীর সাহেবের এলাকায় একটি বাসায় থাকেন।
তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে উপাধ্যক্ষ সাইফুর উত্তরখানে থাকা শুরু করেন। আর ওই বাসায় সম্প্রতি এক দম্পতিকে আশ্রয় দেন।