পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিব ও দুই সার্ভেয়ারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে সরকারি খাসজমি, অর্পিত সম্পত্তি ও অন্যান্য মালিকানাধীন সম্পত্তির ভুয়া রেকর্ড তৈরির মাধ্যমে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩টি চেকের বিপরীতে সরকারের ১০ কোটি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটকসহ ২৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রমথ রঞ্জন ঘটক বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া সাবেক সার্ভেয়ার রাসেল আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আলো পত্তনদার, আবদুল মালেক মৃধা, সুরুজ মিয়া, রাজিয়া বেগম, আবদুল কাদির কাজী, শাহিন বেপারী, কুলসুম বিবি, আতিকুর রহমান, মিলন শেখ, জিল্লুর রহমান, মনির মিয়া, জোছনা বেগম, আঁখি বেগম, আলম আলী বেপারী, হাছিনা বেগম, আছমা বেগম, আওলাদ হোসেন, ফরিদা বেগম, মতিউর রহমান ও সুধাংশু কুমার মণ্ডল। তিনি জানান, তারা সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি ও অন্যের মালিকানাধীন সম্পত্তির ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে জাল-জালিয়াতি, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক জানায়, ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্মাণকাজে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত দরপত্রের অন্যতম দরদাতা এসএনসি লাভালিন ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করায় বনানী থানায় মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে ২০১৪ সালে আদালতে এফআরটি দাখিল করা হয়। ওই মামলা পুনঃপর্যালোচনা করে কমিশন মামলাটি অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর আগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় (মামলা নম্বর ১৯) মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেইন ভূঁইয়া, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।