আত্মপ্রকাশের পর রাজনীতির মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রথম এজেন্ডা গণপরিষদ নির্বাচন আদায়। দাবি আদায়ে দুই ধাপে এগোনোর কর্মপরিকল্পনা রয়েছে নবগঠিত দলটির। চলতি রমজানে ঢিলেঢালা কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকলেও ঈদের পর জোরালো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মপ্রকাশ ঘটে জাতীয় নাগরিক কমিটির। সেই কমিটির ৮ দফার মধ্যে অন্যতম ছিল- গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত এনসিপির প্রথম রাজনৈতিক এজেন্ডা এখন গণপরিষদ নির্বাচন। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনকে গণপরিষদ নির্বাচনে পরিণত করতে সব রকম প্রচেষ্টা চালাবে এনসিপি।
দলটির নেতারা বলছেন, আগামী যে সংসদ নির্বাচন হবে, সেটিকে গণপরিষদ নির্বাচন হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য থাকবে না। তবে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যদের প্রথম এবং একমাত্র কাজ হবে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা। এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মেয়াদের বাকি সময়টুকু তারা সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। নবগঠিত দলের অনেক সাংগঠনিক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। গঠনতন্ত্র প্রণয়ন; কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় প্রতীক, লক্ষ-উদ্দেশ্য, স্লোগান, মূলনীতি নির্ধারণসহ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হতে নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের যোগ্যতা অর্জন। এই কাজগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেরে ফেলতে চান এনসিপির নীতি-নির্ধারকরা।
এসব কাজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতেও সোচ্চার থাকবেন দলটির নেতারা। রমজানে চলবে ঢিলেঢালা কর্মসূচি। সভা, সেমিনারের আয়োজন করে গণপরিষদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চলবে জনসংযোগ কর্মসূচি। রমজান উপলক্ষে ইফতার পার্টির আয়োজন এবং দাওয়াতে অংশ নিয়ে গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলবেন এনসিপির নেতারা। তবে ঈদের পর দাবি আদায়ে জোরালো ও কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির। কারণ হিসেবে দলটির নেতারা বলছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিকে ভালোভাবে নেয়নি। তারা এটিকে তাদের নিজ নিজ দলের রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ বিবেচনা করেছে। গণপরিষদের দাবি তারা বাস্তবায়িত হতে দেবে না এবং বাধা দেয়ার প্রচেষ্টা চালাবে- তাদের মনোভাবে এমনটিই ফুটে উঠেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি আদায়ে এনসিপি কোন পথে এগোবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ এটি নিয়ে দলের মিটিং হবে। সেখানে কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিটি যে সুপারিশগুলো করেছে সেগুলোকে আইনে পরিণত করতে কার্যকর সংসদ প্রয়োজন। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে যারা সংসদে যাবেন তারা আদৌ এগুলো বাস্তবায়ন করবেন কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এজন্য আমরা গণপরিষদ নির্বাচন চাইছি। ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র নিয়ে জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা যে কোনো মূল্যে সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনোভাবেই দেশের জনগণকে আবারও একটা ফ্যাসিস্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফেলে দিয়ে নিপীড়নের শিকার হতে দেব না। ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের মতোই আমরা গণপরিষদের দাবিকেও প্রচার-প্রচারণা এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনদাবিতে পরিণত করব। আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী সংবিধান জনআকাঙ্ক্ষা ধারণ ও পূরণের কার্যকারিতা হারিয়েছে। আগামীর বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে বিনির্মাণ করতে চাই। নতুন সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে হবে। এজন্য গণপরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই।
দুই কর্মসূচি : আজ সকাল ৭টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নেতৃবৃন্দ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর সকাল ১০টায় রাজধানীর রায়েরবাজারে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। দুটি কর্মসূচিতেই এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। গতকাল এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।