ভর্তুকির বোঝা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনসহ (পেট্রোবাংলা) দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি কর্তৃপক্ষ। যদিও দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে নেতিবাচক বলে মন্তব্য করে এ ব্যাপারে সরকারকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন। পাইকারি গ্যাসের দাম বাড়াতে বছরের শুরুতেই প্রস্তাব দিয়েছে করপোরেশন পেট্রোবাংলা। এরপর তিতাস গ্যাস কোম্পানিসহ সরকারি ছয়টি বিতরণ কোম্পানি খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বয়লারে এবং শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (জেনারেটর) বা ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম প্রায় দেড় শ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বয়লারে প্রতি ঘনমিটারে গ্যাসের দাম ৩০ টাকা এবং ক্যাপটিভে ৩১ টাকা ৫০ পয়সা। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে জানানো হয়, গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে গিয়ে চলতি বছর সরকারকে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা আছে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশি গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে আসছে অর্ধেকের মতো। আর ২৫ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে জোগান দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১০১টি কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা আছে। এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা খরচ হয়। ১০১ কার্গো আমদানি করে বিদ্যমান দামে বিক্রি করলে বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। আর ভর্তুকির চাপ কমাতেই শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজির বর্তমান আমদানি মূল্য পড়ছে ৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা। এজন্য দামের পার্থক্য কমাতে গ্যাসের মূল্য বাড়াতে হবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশি গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ক্রমেই কমে যাওয়ায় শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুতে সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে। চাহিদা মেটাতে দেশি গ্যাসের সঙ্গে ২৫ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামীতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। পেট্রোবাংলার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিইআরসির পক্ষ থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে প্রস্তাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কেম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এসব প্রস্তাব বিশ্লেষণ করছে। এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, গ্যাসের দাম এখন বৃদ্ধি করা হলে শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য বিইআরসির গণশুনানি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ভোক্তা অধিকার সংগঠনটি বলছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।