আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নো-ম্যান্স-ল্যান্ড শূন্য, হলো না যৌথ উদ্যোগে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ মিশন, বিশ্বভারতীতেও অনুষ্ঠানে কাটছাঁট করা হয়েছে।
এ বছর কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে কোনোরকম আড়ম্বরতা ছিল না। কলকাতার সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে প্রতি বছর প্রভাতফেরি বের হয়ে থেকে। এবার তা ছিল না। এমনকি দিনভর যে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়, সেগুলোকেও বাদ দেওয়া হয়েছে, কার্যত খুব সংক্ষিপ্ত আকারে এই ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। মিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই অনুষ্ঠান কিছুটা কাঁটছাট করা হয়েছে। ভাষা দিবসে কার্যত শূন্য পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের পেট্রাপোল-বেনাপোল নো-ম্যান্স ল্যান্ড। দুই দেশের আমন্ত্রণে ভাষাপ্রেমী, জনপ্রতিনিধি, বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে মাল্যদান করে এই দিনটিকে যৌথভাবে উদযাপন করা হয়। ভাষার টানে দুই দেশের মানুষ মিলিত হন। এবারের ছবিটা একেবারেই আলাদা। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির আঁচ পড়েছে সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনে অনুষ্ঠানে। যৌথভাবে ভাষা দিবস উদ্যাপন হলো না নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। সীমান্তের উভয় পাড়ে আলাদাভাবে ভাষা দিবস পালন হলেও তা হলো নো-ম্যান্স ল্যান্ডের বেশ কিছুটা দূরত্বে। ভারতীয় দিকে পেট্রাপোল স্থলসীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় ছয়ঘড়িয়া পঞ্চায়েত এবং বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান করা হয়। অস্থায়ী শহীদ বেদি নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি মঞ্চ করে ভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন উপস্থিত কর্তাব্যক্তিরা। তবে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান না হওয়ায় মন খারাপ এপার বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) ভাষাপ্রেমী মানুষের।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মমতা বালা ঠাকুর বলেন, ‘প্রতিবছর নো-ম্যান্স ল্যান্ডে উপস্থিত থেকে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকি, একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। কিন্তু এবার হলো না। তবে আমার মনে হয় দুই দেশের সম্পর্ক আবার ঠিক হবে, আবার আমরা ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে পারব। বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষ জানান, ‘আমরা যারা বাঙালি, আমরা যারা ভাষাপ্রেমী মানুষ, তারা সবাই হতাশ। তবুও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমাদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে ভারতীয় দিকে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে। শান্তিনিকেতনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানেও কিছুটা রদবদল হয়েছে।