শাহবাগ থেকে টিএসসি, মৎস্য ভবন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন, শহীদ মিনার থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমি সর্বত্রই ছিল জনসমুদ্র। শরীরে অ আ ক খ বর্ণমালার উলকি। সঙ্গে ছিল লাল-সবুজের পতাকার অন্যরকম ভালো লাগা। জনসমুদ্রের বাঁধভাঙা জোয়ারে ভাষার প্রেম ফুটে উঠেছিল বাঙালির আপাদমস্তকে। জনসমুদ্রের সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও। আর সেই জনতার ঢেউয়ের ছন্দের তালে তালে বই কিনেছেন বইপ্রেমীরা। প্রতিটি স্টল ও প্যাভিলিয়নের সামনে বইপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন একুশের বইমেলাকে নিয়ে গেছে সফলতার দ্বারপ্রান্তে। হাতে হাতে বই, ব্যাগে ব্যাগে বই আর হাতে হাতে ব্যাগভর্তি বইয়ে অনন্য ভালোলাগার দৃশ্য চিত্রিত ছিল গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। গত ২০ দিন ধরে এমন দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন প্রকাশকরা। আর একুশের শানিত চেতনায় ঋদ্ধ বইমেলায় প্রকাশকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন বইপ্রেমীরা।
নতুন বই : গতকাল অমর একুশে মেলার ২১তম দিনে নতুন বই এসেছে ৩০৭টি। গত ২১ দিনে মেলায় মোট বই প্রকাশ হয়েছে ২ হাজার ২১২টি।
মূল মঞ্চ : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৫। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। ‘ভাষার লড়াই, গণ অভ্যুত্থান ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি রুম্মানা জান্নাত, কবি নিলয় রফিক ও কবি কাজিম রেজা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহিন পারভীন, অধরা সরকার রিয়া, এ কে এম সাইদ হোসেন, তাহরিমা বতুল রিভা, লায়েকা বশীর, বিটু কুমার শীল, শেখ জেরিন শবনম, সৈয়দা সনজিদা জোহরা বীথিকা, শ্রাবণী পাইক, আরিফা নিশাত, বিভাস রঞ্জন মৈত্র, প্রেমা দাস।