শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে তালিকাভুক্ত না হলে শিপবিল্ডার্স এবং বড় কোম্পানিগুলোকে সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে কেবিনেট বা উপদেষ্টা পরিষদকে চিঠি দেওয়া হবে। সরকারের অনুমোদন পেলেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) থেকে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এ চেক এম সাখাওয়াত হোসেনের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, মাত্র ৫০০ কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এ ৫০০ কোম্পানি পয়সা দেয়। বাংলাদেশে ৫০০ কোম্পানি এটা তো হতেই পারে না। এতদিন অন্যরা কেন এনলিস্টেড হলো না, আমি জানি না। বাংলাদেশে বিশাল বিশাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি আছে, যারা হাজার কোটি টাকার কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে। তারা কেন নেই, তারা কেন তাদের প্রফিট থেকে কন্ট্রিবিউশন করে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এদেরকেও এর আওতায় আনতে হবে। তাদের শ্রমিকদের ক্ষতি হয় বেশি, কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে মারা যান, বিকলাঙ্গ হয়। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে পারি না কারণ তারা এনলিস্টেড না। ক্যাবিনেটকে লিখছি বড় কোম্পানি, শিপবিল্ডার্স যদি এনলিস্টেড না হয়, তাহলে অন্তত সরকারি কোনো দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
এদিকে, অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের পক্ষ থেকে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমরা একটা উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি করতে চাচ্ছি, যেন অন্যান্য কোম্পানি এ কাজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে করে। অল্প সংখ্যক কোম্পানি এটা দিচ্ছে। এটা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা এবং রাষ্ট্রের তরফ থেকে তার সুবিধা-অসুবিধা দেখা। শ্রমিকরা নানান ধরনের অসুবিধার মধ্যে থাকেন। ন্যায্য মজুরিসহ তাদের নানান ধরনের নাগরিক সুবিধাগুলো থেকে তারা বঞ্চিত। সেই জায়গা থেকে এ তহবিল একটা বড় জায়গা, শ্রমিকদের জন্য কাজ করার জন্য। শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতি আবেদন থাকবে যেন এটার তদারকি বাড়ানো হয়। নিয়ম-নীতিমালার অধীনে অন্যান্য কোম্পানি থেকে যেন আদায় করতে পারি।