যেসব বিদেশি ভাড়াটে সেনা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হয়ে লড়াই করছেন, তাদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইউক্রেনীয় সেনারা যেসব বৈধ সুরক্ষা ভোগ করবেন, বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
বুধবার ইউক্রেনের সীমান্ত সংলগ্ন কুরস্ক প্রদেশ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পুতিন। সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর কুরস্ক কমান্ডের কমান্ডার এবং জেনারেল স্টাফ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় রাশিয়ার এই প্রদেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক লড়াই হচ্ছে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে। কুরস্কের কিছু এলাকা ইতোমধ্যে দখল করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা।
বৈঠকে পুতিন বলেন, “আমি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের সুরক্ষা সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই। তাই যেসব বিদেশি যোদ্ধা কুরস্কের নাগরিকদের জান-মালের ক্ষতি করেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্পেশাল সার্ভিসের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন— রাশিয়ার প্রচলিত আইন অনুসারে তাদেরকে আমরা সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করব। ইতোমধ্যে কুরস্কের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।”
তিনি আরও বলেছেন, “কুরস্কে রুশ বাহিনীর হাতে ধৃত ইউক্রেনীয় বাহিনীর সেনাদের মধ্যে যারা ইউক্রেনীয় নাগরিক, বন্দি বিনিময়ের সময় শুধু তাদেরকেই মুক্তি দেওয়া হবে। যতদিন তারা বন্দি থাকবে, ততদিন তারা রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তাদের প্রাপ্য সব আইনি সুরক্ষা ভোগ করবে। এমনকি কারাগার বা বন্দিশালায় তাদের কোনো প্রকার নির্যাতনও করা হবে না।”
কিন্তু এসব সুযোগ-সুবিধা বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়ে পুতিন বলেন, “তারা সন্ত্রাসী; রাশিয়ার আইন ও বিচারব্যবস্থায় যেভাবে সন্ত্রাসীদের বিচার করা হয়, তাদেরকেও সেভাবেই বিচারের আওতায় আনা হবে।”
২০২৪ সালের আগস্টে রুশ সেনাদের হটিয়ে কুরস্কের বিশাল এলাকা দখল করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়লে রুশ সেনারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে কুরস্কের বেশির ভাগ এলাকা পুনর্দখল করে।
এই অভিযানের সময় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বেশ কয়েকজন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইউক্রেনের নাগরিক ও বিদেশি ভাড়াটে সেনা— উভয়ই রয়েছে।
এদিকে কুরস্কের অধিকাংশ এলাকা পুনর্দখলের পর অভিযোগ ওঠে, এতদিন দখলকৃত এলাকায় ইউক্রেনীয় সেনারা হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং সাধারণ জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। বর্তমানে রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের অনেকেই এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই অভিযোগেরই তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়ার শীর্ষ আইন কর্মকর্তা বা প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর। পুতিন বুধবার যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তা মূলত এই তদন্ত ও কুরস্কের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গেই।
সূত্র: আরটি (RT)
বিডি প্রতিদিন/আশিক