গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এ বৈঠকে কয়েকজন উপদেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বিকালে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপরে ন্যক্কারজনক একটা হামলা হয়। উনার চিকিৎসা চলছে। গণঅধিকার পরিষদ বলছে, তাদের ৫০ জনের মতো আহত হয়েছেন। এই ঘটনার ওপরে একজন হাই কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুরকে ফোন করে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ফোন রিসিভ করেন নুরের স্ত্রী। পরে নুরের সঙ্গে ড. ইউনূসের কথা হয়। এ সময় হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা। ফোন করে প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুরসহ আহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেকের সম্ভাব্য সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কারও দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ ছাড়া হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে তিনি নুরকে জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে।
গণতন্ত্রের রূপান্তর দ্রুত শেষ হবে : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি চান না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. আবদুল মঈন খান বলেছেন, গণতন্ত্রের রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। গতকাল ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ ভেঙেছে চোয়ালের হাড় : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনায় তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। নুরের চিকিৎসায় এরই মধ্যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। এ সময় তিনি নুরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তার সুচিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এদিকে গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। সেখানে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি টিম নুরকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। তিনি এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি দাবি করেন।
নুরকে দেখতে গিয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা। সরকারকে এ হামলার জবাব দিতে হবে।
গতকাল সকালে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, আঘাতের কারণে নুরুল হক নুরের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ছাড়া তার চোখে রক্তজমাট আছে। হাসপাতালের নিউরো সার্জারি, নাক-কান-গলা বিভাগ, আইসিইউ বিভাগের প্রধানসহ আরও কয়েক বিভাগে সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নুরের আরেকটি সিটি স্ক্যান করে দেখা হবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অবস্থা বেড়েছে নাকি কমেছে। ঢামেক-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নুরের চিকিৎসায় এরই মধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নুরুল হক নুরের মাথায় আঘাত রয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে। ঢামেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, জ্ঞান ফিরলেও নুর এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তার মাথার ভিতরে পানি জমাট বেঁধেছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে নুরুল হক নুর এবং রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।