গাজীপুরের কাশিমপুরের একটি বাড়ির কক্ষ থেকে স্ত্রী-সন্তান ও স্বামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারণা। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গতকাল সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন গোবিন্দবাড়ি দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- মো. নাজমুল ইসলাম (২৮), স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২২) ও তাদের মেয়ে নাদিয়া আক্তার (৪)। নিহত নাজমুল টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার শুলাপ্রতিমা গ্রামের মো. আবু মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কাশিমপুরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় শ্বশুর রিপন মিয়ার বাড়িতে বাস করতেন। তার কোনো পেশা ছিল না এবং তিনি নেশা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গোবিন্দবাড়ি এলাকায় শ্বশুরের বাড়িতেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নাজমুল ইসলাম বসবাস করতেন। অনেকদিন ধরেই নানা বিষয় নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ চলছিল। এসব নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা নিজ ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েন। পরদিন ঘুম থেকে না ওঠায় রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিবারের লোকজন তাদের ডাকাডাকি করতে থাকেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শ্বশুরের ঘরের পেছন দিকের জানালা টেনে ফাঁকা করে নাজমুলের গলায় উড়না প্যাঁচানো লাশ ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে দরাজা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাদিজা ও নাদিয়ার নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার সকাল ১০টার দিকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। গাজীপুর মেট্রেপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নাজমুল বেকার ও মাদকাসক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী খাদিজা ও শিশু সন্তান নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তার শরীরে ব্লেডের আঁচড় রয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার আগে তিনি হারপিক পান করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করেন তিনি।