ঐকমত্য কমিশনের অনেক বিষয়ে একমত হতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে মতামত চাওয়ার পর দলের সর্বোচ্চ পর্ষদে এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু করাসহ নানা বিষয়ে সুপারিশ করেছে দলটি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি আজ কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার কথা দলটির। জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কমিশন মতামত চেয়েছে। আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে সুপারিশ দিয়েছি। তাদের সব মতামতের সঙ্গে আমরা একমত হতে পারিনি। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংস্কার কার্যকর করাই বড় চ্যালেঞ্জ। যে উদ্দেশ্যে এত পরিবর্তন তার প্রতিফলন না হলে জাতি হতাশ হবে।’ সূত্র জানায়, জামায়াত চায় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন। বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর করা। বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা করা। আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল আইন প্রণয়ন করা। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ ও সব কালো আইন বাতিল করা। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাই কোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা।
সূত্র মতে, প্রতিবেদনে দলটি বেশ কয়েকটি বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করা, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করা, কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে তিন বছরের মধ্যে যেন কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা। নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কমিশনের কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশের ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে চাওয়া হয়েছে।