আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২৭ জন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পুলিশের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনবেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এ সময় প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন। আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ আছে। এজন্য সারা দেশের মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা। পুলিশ সুপার ও তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠক হবে। বিভিন্ন মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ক্রাইম টিমের সদস্যসহ ১২৭ জন শীর্ষ পুলিশ অফিসার বৈঠকে যোগ দেবেন। পুলিশের আইজিপি সেখানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। ৫ আগস্টের পর পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে জানাবেন। একই সঙ্গে পুলিশের মোরাল অ্যাক্টিভিটিস ফিরিয়ে আনার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাও অবহিত করবেন। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া অপরাধ এবং ফ্যাক্ট নিয়ে কথা বলবেন আইজিপি। মাঠপর্যায়ের ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্টে সেখানে কথা বলবেন। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমস্যা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বলবেন। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকেও পুলিশকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ধরনের বিশেষ সভা আগে কখনো হয়নি। উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে সরকার পুলিশের উদ্দেশে কিছু দিকনির্দেশনা দেয়। এবার পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে ২৯ এপ্রিল। সেখানেও প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য রাখবেন এবং দিকনির্দেশনা দেবেন। তার আগে আজকের সভায় পুলিশকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর নিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, চার দিনের সফরে প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্টসহ দেশটির বড় বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের সিইও ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরামে বক্তৃতা করবেন তিনি। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের অন্যতম প্রচেষ্টা থাকবে চীনের ব্যবসায়ীরা যেন এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। গণ অভ্যুত্থানের পর গত সাত মাসে বাংলাদেশে চাইনিজ কোম্পানিগুলো সর্বাধিক বিনিয়োগ করেছে। আমরা বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব করতে চাই। এক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। চীনা কোম্পানিগুলো এখানে ফ্যাক্টরি করে তাদের পণ্য বিশ্বে আরও সহজে রপ্তানি করতে পারবে। এতে আমরাও নানাভাবে লাভবান হব। প্রধান উপদেষ্টার দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে দুটি চাইনিজ কোম্পানি বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায়ও চীন থেকে নানা সুবিধা নিতে চাচ্ছি আমরা। সফরকালে চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিতে বক্তৃতা করবেন প্রধান উপদেষ্টা। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত এ সফরটিকে ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর বলে মন্তব্য করেছেন। এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সিপিডির মতামত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আমরা সেটা মনে করি না। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশ নানাভাবে সুবিধা পাবে। সব সেক্টরের জন্য ভালো হবে। এ ছাড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যা করণীয় আমরা তা করছি। দ্রুত গ্যাসসংকট সমাধানে নানা উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।